লোকমানুষ এর ব্লগ

এক টুকরো আকাশ, এক মুঠো মাটির গল্প...

বিদায়, নানা পাটেকর - একটি সময়ের সমাপ্তিু

কিছু মানুষ চলে গেলে আমরা কেবল মানুষের শূন্যতা অনুভব করি। আর কিছু মানুষ চলে গেলে মনে হয়, আমাদের চেনা একটা সময়ই হারিয়ে গেল। আজ ৮ অক্টোবর ২০২৬, ৭৫ বছর বয়সে গোয়ার বাড়িতে হঠাৎ হৃদ্‌রোগে থেমে গেলেন বিশ্বনাথ পাটেকর। সারা ভারত যাঁকে ডাকত ‘নানা’ বলে। খবরটা শোনার পর প্রথমে কারও মনে পড়বে একটা তীক্ষ্ণ সংলাপ, কারও একজোড়া স্থির চোখ, কারও ‘ক্রান্তিবীর’-এর সেই আগুনঝরা গলা। কিন্তু একটু পরেই টের পাওয়া যায়, শুধু সিনেমার স্মৃতি দিয়ে এই মানুষটিকে বিদায় জানানো যায় না। পর্দার নানাকে আমরা চিনেছি, আর পর্দার বাইরের নানা ছিলেন তাঁর চেয়েও অনেক বড়।

Read more...

ট্রেন মিস করার গল্প...

রাত এগারোটা পনেরো। রাশেদ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে, আর তাঁর মুখের ভাব দেখে মনে হচ্ছে এইমাত্র সে জানতে পেরেছে যে, পৃথিবীর সব ট্রেন আসলে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ করে।

পাঁচ মিনিট আগে তার ট্রেনটা চলে গেছে। রাশেদ দৌড়ে এসেছিল ঠিকই, তবে তাঁর দৌড়ের গতি ছিল সরকারি ফাইলের মতো। ট্রেন তাঁর জন্য দাঁড়ায়নি, শুধু শেষ বগির লাল বাতিটা একবার চোখ টিপে বিদায় জানিয়েছে।

Read more...

জানো কি প্রণয়িনী

জানো কি প্রণয়িনী, যদি কোনো লেখক তোমার প্রেমে পড়ে, তবে নশ্বর এই ধরায় তুমি হয়ে উঠবে অবিনশ্বর। পাতায় পাতায় বাঁধা পড়বে তোমার নাম, যুগ থেকে যুগান্তরে মানুষ পড়বে সেই কথা, শত-সহস্র প্রেমিক খুঁজে পাবে তোমাতেই আপন ঠিকানা, কালের গর্ভে তুমিই রবে চিরন্তন প্রণয়...

জানো কি প্রণয়িনী, যদি কোনো কবি তোমার প্রেমে পড়ে, তবে তুমিই হবে তার প্রতিটি পঙক্তির প্রাণ। শব্দে শব্দে গাঁথা হবে তোমার মুখের হাসি, ছন্দে ছন্দে বাজবে তোমার নামের সুর, মানুষ যখন ভালোবাসা খুঁজবে কবিতার বুকে, সেখানে তোমাকেই খুঁজে পাবে বারবার...

Read more...

গল্প-প্রতিচ্ছায়া

সকালগুলো এই শহরে সাধারণত একটা নরম, ভেজা আলস্য নিয়ে শুরু হয়। কুয়াশা আর রোদের মাঝামাঝি একটা অনিশ্চিত সময়, যখন রাস্তার ধারের চায়ের দোকানগুলো সবে চুলা জ্বালায় আর রিকশার টুংটাং শব্দে ঘুম ভাঙে গোটা পাড়ার। সেদিন সকালটাও ঠিক তেমনই শুরু হয়েছিল, অন্তত প্রথম কয়েক মিনিট পর্যন্ত। জানালার পর্দা ফুঁড়ে যে আলো এসে পড়েছিল ঘরের মেঝেতে, তাতে কোনো অস্বাভাবিকতা ছিল না। কিন্তু বাড়ির বাইরে পা রাখার পরই বাতাসের গন্ধটা কেমন বদলে গেল। ভেজা কাগজ আর কালির একটা তীব্র, প্রায় অস্বস্তিকর গন্ধ, আর তার সাথে যুক্ত হয়েছে কড়া লিকারের চায়ের একটা গন্ধ। আশেপাশে তাকাতেই বুঝলাম প্রতিটা দেয়ালে পোস্টার দিয়ে ছেয়ে গেছে।

Read more...

মৃত পায়রার জয়

একটা হাত উঠে আছে আকাশের দিকে। কালো, শক্ত, বিজয়ের ভঙ্গিতে দুটো আঙুল ছুঁয়ে গেছে শূন্যতাকে। সেই আঙুলের বাঁধনে গোঁজা একটা সাদা পায়রা। দূর থেকে দেখলে বুকটা একবার নেচে ওঠে- আহা, শান্তি এসেছে বুঝি! যুদ্ধ থেমেছে, রক্ত থেমেছে, কেউ একজন হাতে তুলে নিয়েছে শান্তির চিহ্ন।

কিন্তু কাছে গেলে বুক ধক করে ওঠে।

Read more...

টেলিপোর্টার আবিষ্কারের পর পৃথিবী থেকে সবার আগে হারিয়ে গিয়েছিল ‘দূরত্ব’ নামক ধারণাটি। কোথাও পৌঁছানোর ব্যাপারে মানুষ মুক্ত হয়েছিল অপেক্ষার হাত থেকে। প্রথম দফায় যন্ত্রগুলো বসানো হয়েছিল এমন সব স্থানে যেগুলো ছিলো মানুষের চিরচেনা গন্তব্য। ব্যস্ত শহরের কেন্দ্র, কোলাহলপূর্ণ বিমানবন্দর, ঝলমলে সমুদ্রসৈকত আর পাহাড়ি রিসোর্টের চূড়ায়। এক প্যাডে দাঁড়িয়ে চোখের পলকে মানুষ পৌঁছে যাচ্ছিল পৃথিবীর আরেক প্রান্তে।

Read more...

জানালার কাচে তখনো বৃষ্টির শেষ ফোঁটাগুলো আলতো করে টোকা দিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ আগেও প্রকৃতির বুকে যে উন্মাতাল তাণ্ডব চলল, তাকে একরকম রূপকথা বলেই ভ্রম হয়। দমকা ঝড়ো বাতাস, মেঘের গুরুগুরু গগনবিদারী গর্জন, আর সাথে বুক কাঁপানো দুই-একটি বজ্রপাত -সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন তার সমস্ত ক্ষোভ উগরে দিল এই আধঘণ্টায়।

তারপর হঠাৎ করেই শান্ত। আকাশ তার রাগ ঝেড়ে এখন হালকা, শান্ত। ঘরের কোণে জমে উঠেছে একটা শিরশিরে ঠান্ডা হাওয়া, যা গায়ে লাগলেই কেমন যেন একটা আলসেমি জড়িয়ে ধরে। মন বলে, এই চমৎকার ঠান্ডা আবহে কম্বলটা গায়ে টেনে দিয়ে একটা লম্বা, নিটোল ঘুম দেওয়া যাক। কিন্তু চোখ বুজলেই কি আর ঘুম আসে? কিছু কিছু আবহাওয়া আসলে ঘুমের চেয়ে বেশি জাগিয়ে তোলে ভেতরের মানুষকে, খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে স্মৃতির ধুলোবালি ঝেড়ে ফেলে তাকে তুলে ধরে মনের দৃষ্টিতে।

যেমন আজ এই বৃষ্টির শেষলগ্নে এসে বুকটা কেমন যেন হুঁ হুঁ করে উঠল। খুব মনে পড়ছে আম্মাকে।

Read more...

লাভ বুঝি না লোকসান বুঝি না ভালো বুঝি না মন্দ বুঝি না কিংবা তাদের মিসেল বুঝি না হাসি বুঝি না কান্না বুঝি না কাছের মানুষ হারাবার আগে তাদের চোখের ভাষাটা বুঝি না আমরা আসলে কিছুই বুঝিনা

গ্রাম ভেঙে শহর করার আগে গ্রাম্য জীবনের সরলতা বুঝি না নদী ভরাট জমি করার আগে নিরালা বাতাসের শীতলতা বুঝি না মাটির ঘর পাঁকা করার আগে আপন নিবাসের ঠিকানা বুঝি না আমরা আসলে কিছুই বুঝিনা

Read more...

⠀⠀ বহুকাল আমি নিজেকে একজন ভুল মানুষ ভেবে এসেছি। আমার পৃথিবীটা ছিল কুয়াশায় ঢাকা, যেখানে স্পষ্ট বলতে কিছুই ছিল না। আমার ভেতরে নিজেকে প্রকাশ করার এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল, কিন্তু যতবারই আমি মুখ খুলতে চেয়েছি, ততবারই মনে হয়েছে যেন কেউ একজন আমার কথাগুলো বন্দি করতে ছুটে আসছে। ভয় ছিল আমার ছায়াসঙ্গী। তাই আলো থেকে পালিয়ে বারবার আমি ফিরে এসেছি আমার পরিচিত অন্ধকারে, আর সেই অন্ধকারই হয়ে উঠেছিল আমার একমাত্র পরিচয়। আমি মেনেই নিয়েছিলাম- আমি আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত ভুলে ভরা এক মানুষ, যার জন্মই হয়েছে ভুল করার জন্য।

কিন্তু একদিন সবকিছু বদলে গেল, যেদিন আমার ভাবনার সাগর নিজের গতিপথ বদলে গিয়ে পড়ল ছোট্ট একটি বীজের উপর।

Read more...

মানুষ ঠিক ততটুকুই সম্মানেই সবচেয়ে মানবিক থাকে, যতটুকু তার প্রাপ্য। এর বেশি দিলেই বিপদ। এটি কোনো দার্শনিক অনুমান নয়, এটি জীবনের ঘটনাপ্রবাহকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে পাওয়া একটি অকাট্য সত্য।

অতিরিক্ত সম্মান মানুষের মস্তিষ্কে এক বিচিত্র রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। প্রথমে সে এই অযাচিত সম্মান পেয়ে একটু অবাক হয়, তারপর তাতে অভ্যস্ত হয়ে উঠে, এবং তারপর- এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক ধাপ; সে ধরেই নেয় যে এটাই তার ন্যায্য প্রাপ্য ছিল!!

Read more...