<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0" xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/">
  <channel>
    <title>লোকমানুষ এর ব্লগ</title>
    <link>https://infosec.press/lokmanus/</link>
    <description>এক টুকরো আকাশ, এক মুঠো মাটির গল্প...</description>
    <pubDate>Tue, 07 Apr 2026 22:40:15 +0000</pubDate>
    <item>
      <title>রাজকীয় ছাগল উৎপাদনে আমাদের অবদান</title>
      <link>https://infosec.press/lokmanus/raajkiiy-chaagl-u-paadne-aamaader-abdaan</link>
      <description>&lt;![CDATA[ &#xA;&#xA;মানুষ ঠিক ততটুকুই সম্মানেই সবচেয়ে মানবিক থাকে, যতটুকু তার প্রাপ্য। এর বেশি দিলেই বিপদ। এটি কোনো দার্শনিক অনুমান নয়, এটি জীবনের ঘটনাপ্রবাহকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে পাওয়া একটি অকাট্য সত্য। &#xA;&#xA;অতিরিক্ত সম্মান মানুষের মস্তিষ্কে এক বিচিত্র রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। প্রথমে সে এই অযাচিত সম্মান পেয়ে একটু অবাক হয়, তারপর তাতে অভ্যস্ত হয়ে উঠে, এবং তারপর- এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক ধাপ; সে ধরেই নেয় যে এটাই তার ন্যায্য প্রাপ্য ছিল!! &#xA;&#xA;!--more--&#xA;&#xA;এই উপলব্ধির পর থেকে সে হঠাৎ আবিষ্কার করে যে তার মতামত অমোঘ, তার রুচি অতুলনীয়, এবং পৃথিবীর বাকি সবাই মূলত তার জ্ঞানের অপেক্ষায় ক্ষুদ্র, তুচ্ছ, অতিনগণ্য। এরপর থেকে সে আর মানুষের মতো আচরণ করে না; সে আচরণ করে একজন রাজকীয় ছাগলের মতো। যেদিকে খুশি যায়, যা খুশি বলে, যা খুশি করে, যা খুশি তাতে মুখ লাগায়, যা খুশি তাই খায়, আর কেউ সামান্য বাধা দিলে উলটো শিং নাড়িয়ে তেড়ে আসে। &#xA;&#xA;এখন স্বাভাবিক প্রশ্ন হলো, এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?&#xA;&#xA;একটাই উপায় তার, তা হলো &#39;সম্মান প্রত্যাহার&#39;।&#xA;কিন্তু সেটি ধীরে ধীরে করলে কাজ হয় না, কারণ মানুষ নিজের সম্মান হারানোর ব্যাপারে অত্যন্ত সৃজনশীল(!)। প্রতিটি ধাপে সে নতুন ব্যাখ্যা দাঁড় করায়। সে ভাবে এবং বলে- &#34;ওরা আসলে আমাকে বোঝে না&#34;, &#34;ওরা হিংসুটে, আমাকে হিংসা করে&#34;, &#34;ওরা আমার কদর বুঝলো না&#34;, &#34;আমি যে ওদের জন্য কী করেছি তা ওরা বুঝলো না&#34;, কিংবা &#34;এই যুগ/লোকগুলো আমার উপযুক্ত নয়&#34;। এমনকি প্রয়োজনে সে ইতিহাসের দুই-একজন মহামানবের সাথে নিজের তুলনাও টেনে বসে, কারণ তারাও নাকি জীবদ্দশায় স্বীকৃতি পাননি। এই জাতীয় দার্শনিক সান্ত্বনা সে নিজেই নিজেকে অবিরাম দিতে থাকে, এবং ছাগলামি নির্বিঘ্নে অব্যাহত রাখে। &#xA;&#xA;সম্মান পুরোপুরি শূন্য না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া থামে না। শূন্যের কোঠায় এসে সে কিছুটা থমকায়, চারদিকে তাকায়, এবং ধীরে ধীরে আবার মানুষ হওয়ার চেষ্টা শুরু করে। তখন অবশ্য অনেক দেরি হয়ে যায়, এবং দর্শকরাও ততদিনে তাকে ছেড়ে চলে গিয়ে থাকে। &#xA;&#xA;তাই কাউকে সত্যিকার অর্থে শ্রদ্ধা করলে, তাকে যতটুকু প্রাপ্য ঠিক ততটুকুই সম্মান দিন, তার বিন্দু বেশি নয়। &#xA;&#xA;কারণ অতিরিক্ত সম্মান আসলে সম্মান নয়, এটি একটি ধীরগতির বিষ, একটি দীর্ঘমেয়াদি অভিশাপ। এই অভিশাপ মানুষকে নিজের অজান্তেই, ধীরে ধীরে, অত্যন্ত নিপুণভাবে অন্য একটি প্রাণীতে রূপান্তরিত করে।&#xA;এবং সেই প্রাণীটির নাম ইতোমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।&#xA;&#xA;~ বাস্তবতার ঘটনাপ্রবাহ ছেঁকে সংগৃহীত]]&gt;</description>
      <content:encoded><![CDATA[<p><img src="https://images2.imgbox.com/ce/16/IR76M2H8_o.jpg" alt=" "></p>

<p>মানুষ ঠিক ততটুকুই সম্মানেই সবচেয়ে মানবিক থাকে, যতটুকু তার প্রাপ্য। এর বেশি দিলেই বিপদ। এটি কোনো দার্শনিক অনুমান নয়, এটি জীবনের ঘটনাপ্রবাহকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে পাওয়া একটি অকাট্য সত্য।</p>

<p>অতিরিক্ত সম্মান মানুষের মস্তিষ্কে এক বিচিত্র রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। প্রথমে সে এই অযাচিত সম্মান পেয়ে একটু অবাক হয়, তারপর তাতে অভ্যস্ত হয়ে উঠে, এবং তারপর- এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক ধাপ; সে ধরেই নেয় যে এটাই তার ন্যায্য প্রাপ্য ছিল!!</p>



<p>এই উপলব্ধির পর থেকে সে হঠাৎ আবিষ্কার করে যে তার মতামত অমোঘ, তার রুচি অতুলনীয়, এবং পৃথিবীর বাকি সবাই মূলত তার জ্ঞানের অপেক্ষায় ক্ষুদ্র, তুচ্ছ, অতিনগণ্য। এরপর থেকে সে আর মানুষের মতো আচরণ করে না; সে আচরণ করে একজন রাজকীয় ছাগলের মতো। যেদিকে খুশি যায়, যা খুশি বলে, যা খুশি করে, যা খুশি তাতে মুখ লাগায়, যা খুশি তাই খায়, আর কেউ সামান্য বাধা দিলে উলটো শিং নাড়িয়ে তেড়ে আসে।</p>

<p>এখন স্বাভাবিক প্রশ্ন হলো, এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?</p>

<p>একটাই উপায় তার, তা হলো &#39;সম্মান প্রত্যাহার&#39;।
কিন্তু সেটি ধীরে ধীরে করলে কাজ হয় না, কারণ মানুষ নিজের সম্মান হারানোর ব্যাপারে অত্যন্ত সৃজনশীল(!)। প্রতিটি ধাপে সে নতুন ব্যাখ্যা দাঁড় করায়। সে ভাবে এবং বলে- “ওরা আসলে আমাকে বোঝে না”, “ওরা হিংসুটে, আমাকে হিংসা করে”, “ওরা আমার কদর বুঝলো না”, “আমি যে ওদের জন্য কী করেছি তা ওরা বুঝলো না”, কিংবা “এই যুগ/লোকগুলো আমার উপযুক্ত নয়”। এমনকি প্রয়োজনে সে ইতিহাসের দুই-একজন মহামানবের সাথে নিজের তুলনাও টেনে বসে, কারণ তারাও নাকি জীবদ্দশায় স্বীকৃতি পাননি। এই জাতীয় দার্শনিক সান্ত্বনা সে নিজেই নিজেকে অবিরাম দিতে থাকে, এবং ছাগলামি নির্বিঘ্নে অব্যাহত রাখে।</p>

<p>সম্মান পুরোপুরি শূন্য না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া থামে না। শূন্যের কোঠায় এসে সে কিছুটা থমকায়, চারদিকে তাকায়, এবং ধীরে ধীরে আবার মানুষ হওয়ার চেষ্টা শুরু করে। তখন অবশ্য অনেক দেরি হয়ে যায়, এবং দর্শকরাও ততদিনে তাকে ছেড়ে চলে গিয়ে থাকে।</p>

<p>তাই কাউকে সত্যিকার অর্থে শ্রদ্ধা করলে, তাকে যতটুকু প্রাপ্য ঠিক ততটুকুই সম্মান দিন, তার বিন্দু বেশি নয়।</p>

<p>কারণ অতিরিক্ত সম্মান আসলে সম্মান নয়, এটি একটি ধীরগতির বিষ, একটি দীর্ঘমেয়াদি অভিশাপ। এই অভিশাপ মানুষকে নিজের অজান্তেই, ধীরে ধীরে, অত্যন্ত নিপুণভাবে অন্য একটি প্রাণীতে রূপান্তরিত করে।
এবং সেই প্রাণীটির নাম ইতোমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।</p>

<p>~ বাস্তবতার ঘটনাপ্রবাহ ছেঁকে সংগৃহীত</p>
]]></content:encoded>
      <guid>https://infosec.press/lokmanus/raajkiiy-chaagl-u-paadne-aamaader-abdaan</guid>
      <pubDate>Sun, 15 Mar 2026 18:00:00 +0000</pubDate>
    </item>
    <item>
      <title>জীবনের জটিল সমীকরণঃ সফলতার ভ্রম ও বাস্তবতা</title>
      <link>https://infosec.press/lokmanus/jiibner-jttil-smiikrnnh-sphltaar-bhrm-o-baastbtaa</link>
      <description>&lt;![CDATA[ &#xA;&#xA;⠀⠀&#xA;আমরা সাধারণত চোখের সামনে যা দেখি, তাকেই সত্য ধরে নিই। আজ কার লাভ হলো, কে উন্নতি করল, কে ক্ষমতার চেয়ারে বসল -এসব দিয়েই আমরা সফলতা আর ব্যর্থতার বিচার করি। অথচ জীবন এত সরল নয়। জীবনের হিসাব অনেক গভীর, অনেক বিস্তৃত। এখানে সময়ের সাথে সাথে জীবনের সমীকরণ বদলায়, আরও বদলে যায় সফলতার সংজ্ঞা।&#xA;&#xA;একদিন তাড়াহুড়ো করে বাসে উঠতে গিয়ে বাদামের ঝুড়ি হাতে রফিক মিয়া হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল। ঠিক সেই মুহূর্তে ট্র্যাফিক ছেড়ে দেওয়ায় কয়েকটি গাড়ির চাকার নিচে পিষ্ট হলো তার সারা দিনের পুঁজি -বাদামের ঝুড়ি। মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল তার রুজি-রুটি। অসহায় মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল সে। &#xA;&#xA;!--more--&#xA;&#xA;অন্যদিকে একই রুটে বাদাম বিক্রি করা শফিক মিয়ার সেদিন দারুণ লাভ হলো। রফিক না থাকায় দ্বিগুণ বিক্রি করল সে। হাতে এলো ভালো অঙ্কের টাকা। আপাতদৃষ্টিতে ঐদিনের জন্য শফিক হলো সফল, আর রফিক হলো ব্যর্থ, নিঃস্ব একজন। কিন্তু সন্ধ্যায় সারা দিনের আয় নিয়ে শফিক বসে গেল জুয়ার আসরে। রাত শেষ হতেই উপার্জিত সব টাকা হারিয়ে সেও শূন্যে নেমে এলো। সকালে দেখা গেল- রফিক আর শফিক দুজনকেই আবার শূন্য শুরু করতে হবে। তবে পার্থক্য এক জায়গায়। &#xA;&#xA;রফিক মিয়া ছিল সৎ, ভদ্র ও পরিশ্রমী মানুষ। সবাই তাকে বিশ্বাস করত। তাই সে যখন নতুন করে ব্যাবসা শুরু করতে চাইল, তখন মানুষ বিনা দ্বিধায় তাকে বাকীতে মাল দিল। মানুষের বিশ্বাসই হয়ে উঠল তার নতুন মূলধন। অন্যদিকে শফিকের জুয়ার নেশা আর অবিশ্বস্ততা কথা সবাই জানত। তাই কেউ তাকে বাকীতে মাল দিতে চাইল না। বিশ্বাসহীন মানুষের জন্য পৃথিবীর কোনো দরজাই কখনো খোলা থাকে না। &#xA;&#xA;⠀⠀&#xA;এবার চলুন আরেকটি গল্প শুনি। গল্পটা সুমন নামের এক অফিসের সহকারী ম্যানেজারের। সারাদিন বসকে তোষামোদ করে সময় কাটাত, আবার আড়ালে তারই বদনাম করে বেড়াত। তবে তার একটা সুপ্ত ও গোপন ইচ্ছা ছিল। ইচ্ছেটি ছিল- কবে বসের চাকরি যাবে আর সে সেই চেয়ারে বসবে। অনেক দিন পর তার সেই চাওয়া পূরণ হলো। তার বস চাকরি ছেড়ে চলে গেল, আর সুমন পদোন্নতি পেয়ে হলো ম্যানেজার। &#xA;&#xA;মানুষের চোখে সে সফল। কিন্তু সফলতা আর ইচ্ছে পূরণ তো আর তার চরিত্র বদলাতে পারে না। আগের মতোই চললল তার অফিস পলিটিক্স, ষড়যন্ত্র, স্বজনপ্রীতি আর তোষামোদের রাজনীতি। ফলে বিশ্বস্ত, কর্মঠ ও যোগ্য কর্মচারীরা একে একে চাকরি ছাড়তে লাগল। শূন্য পদে নিয়োগ পেল অদক্ষ, তেলবাজ ও অনভিজ্ঞ লোকজন। আর এসব কারণে কোম্পানির ক্ষতি বাড়তে থাকল। শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে সুমন ও তার গড়া পুরো দলকেই ছাঁটাই করলো। &#xA;&#xA;⠀⠀&#xA;আরও একটি গল্প শোনা যাক। পরীক্ষায় একজন নকল করে ভালো রেজাল্ট করল, আর অন্যজন সততার সাথে পরিশ্রম করে মাঝারি ফল পেল। সবাই প্রথমজনকে মেধাবী বলল। কিন্তু সময়ের সাথে দেখা গেল- নকলের সাফল্য টেকেনি, আর পরিশ্রমী মানুষটি ধীরে ধীরে জীবনে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। &#xA;&#xA;এই গল্পগুলো আমাদের চারপাশে ঘটে চলেছে। গল্প গুলো আমাদের শেখায়- সফলতা একদিনের অর্জন নয়, এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফসল। সাময়িক লাভ, ক্ষমতা কিংবা বাহবা প্রকৃত সাফল্যের পরিচয় নয়। প্রকৃত সাফল্য গড়ে ওঠে সততা, পরিশ্রম, নৈতিকতা, ধৈর্য ও মানবিকতার ওপর ভর করে।&#xA;&#xA;⠀⠀&#xA;&#xA;⠀⠀&#xA;&#xA;জীবনে দ্রুত সফল হওয়ার চেয়ে সঠিক পথে এগোনো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।&#xA;&#xA;জীবন এক নিরন্তর প্রবহমান ধারা। এই ধারার সামনে টিকে থাকার জন্যে সততা, পরিশ্রম, ধৈর্য ও নৈতিকতা -এই চারটি স্তম্ভ শক্ত করে গড়তে হবে। আর এই স্তম্ভের ওপর দাঁড়ানো সাফল্যই প্রকৃত সাফল্য। তাই কাউকে সফল বা ব্যর্থ বলার আগে একটু থামা উচিত। কারণ আমরা দেখি ঢেউয়ের তোড়, কিন্তু জানি না স্রোতের গতি। আর এই অদেখা স্রোতের কাছেই তো শেষ কথা বলার অধিকার থাকে।&#xA;&#xA;⠀⠀&#xA;&#xA;⠀⠀&#xA;&#xA;⠀⠀&#xA;&#xA;⠀⠀&#xA;]]&gt;</description>
      <content:encoded><![CDATA[<p><img src="https://images2.imgbox.com/17/72/2y7iZcQF_o.jpg" alt=" "></p>

<p>⠀⠀
আমরা সাধারণত চোখের সামনে যা দেখি, তাকেই সত্য ধরে নিই। আজ কার লাভ হলো, কে উন্নতি করল, কে ক্ষমতার চেয়ারে বসল -এসব দিয়েই আমরা সফলতা আর ব্যর্থতার বিচার করি। অথচ জীবন এত সরল নয়। জীবনের হিসাব অনেক গভীর, অনেক বিস্তৃত। এখানে সময়ের সাথে সাথে জীবনের সমীকরণ বদলায়, আরও বদলে যায় সফলতার সংজ্ঞা।</p>

<p>একদিন তাড়াহুড়ো করে বাসে উঠতে গিয়ে বাদামের ঝুড়ি হাতে রফিক মিয়া হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল। ঠিক সেই মুহূর্তে ট্র্যাফিক ছেড়ে দেওয়ায় কয়েকটি গাড়ির চাকার নিচে পিষ্ট হলো তার সারা দিনের পুঁজি -বাদামের ঝুড়ি। মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল তার রুজি-রুটি। অসহায় মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল সে।</p>



<p>অন্যদিকে একই রুটে বাদাম বিক্রি করা শফিক মিয়ার সেদিন দারুণ লাভ হলো। রফিক না থাকায় দ্বিগুণ বিক্রি করল সে। হাতে এলো ভালো অঙ্কের টাকা। আপাতদৃষ্টিতে ঐদিনের জন্য শফিক হলো সফল, আর রফিক হলো ব্যর্থ, নিঃস্ব একজন। কিন্তু সন্ধ্যায় সারা দিনের আয় নিয়ে শফিক বসে গেল জুয়ার আসরে। রাত শেষ হতেই উপার্জিত সব টাকা হারিয়ে সেও শূন্যে নেমে এলো। সকালে দেখা গেল- রফিক আর শফিক দুজনকেই আবার শূন্য শুরু করতে হবে। তবে পার্থক্য এক জায়গায়।</p>

<p>রফিক মিয়া ছিল সৎ, ভদ্র ও পরিশ্রমী মানুষ। সবাই তাকে বিশ্বাস করত। তাই সে যখন নতুন করে ব্যাবসা শুরু করতে চাইল, তখন মানুষ বিনা দ্বিধায় তাকে বাকীতে মাল দিল। মানুষের বিশ্বাসই হয়ে উঠল তার নতুন মূলধন। অন্যদিকে শফিকের জুয়ার নেশা আর অবিশ্বস্ততা কথা সবাই জানত। তাই কেউ তাকে বাকীতে মাল দিতে চাইল না। বিশ্বাসহীন মানুষের জন্য পৃথিবীর কোনো দরজাই কখনো খোলা থাকে না।</p>

<p>⠀⠀
এবার চলুন আরেকটি গল্প শুনি। গল্পটা সুমন নামের এক অফিসের সহকারী ম্যানেজারের। সারাদিন বসকে তোষামোদ করে সময় কাটাত, আবার আড়ালে তারই বদনাম করে বেড়াত। তবে তার একটা সুপ্ত ও গোপন ইচ্ছা ছিল। ইচ্ছেটি ছিল- কবে বসের চাকরি যাবে আর সে সেই চেয়ারে বসবে। অনেক দিন পর তার সেই চাওয়া পূরণ হলো। তার বস চাকরি ছেড়ে চলে গেল, আর সুমন পদোন্নতি পেয়ে হলো ম্যানেজার।</p>

<p>মানুষের চোখে সে সফল। কিন্তু সফলতা আর ইচ্ছে পূরণ তো আর তার চরিত্র বদলাতে পারে না। আগের মতোই চললল তার অফিস পলিটিক্স, ষড়যন্ত্র, স্বজনপ্রীতি আর তোষামোদের রাজনীতি। ফলে বিশ্বস্ত, কর্মঠ ও যোগ্য কর্মচারীরা একে একে চাকরি ছাড়তে লাগল। শূন্য পদে নিয়োগ পেল অদক্ষ, তেলবাজ ও অনভিজ্ঞ লোকজন। আর এসব কারণে কোম্পানির ক্ষতি বাড়তে থাকল। শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে সুমন ও তার গড়া পুরো দলকেই ছাঁটাই করলো।</p>

<p>⠀⠀
আরও একটি গল্প শোনা যাক। পরীক্ষায় একজন নকল করে ভালো রেজাল্ট করল, আর অন্যজন সততার সাথে পরিশ্রম করে মাঝারি ফল পেল। সবাই প্রথমজনকে মেধাবী বলল। কিন্তু সময়ের সাথে দেখা গেল- নকলের সাফল্য টেকেনি, আর পরিশ্রমী মানুষটি ধীরে ধীরে জীবনে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।</p>

<p>এই গল্পগুলো আমাদের চারপাশে ঘটে চলেছে। গল্প গুলো আমাদের শেখায়- সফলতা একদিনের অর্জন নয়, এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফসল। সাময়িক লাভ, ক্ষমতা কিংবা বাহবা প্রকৃত সাফল্যের পরিচয় নয়। প্রকৃত সাফল্য গড়ে ওঠে সততা, পরিশ্রম, নৈতিকতা, ধৈর্য ও মানবিকতার ওপর ভর করে।</p>

<p>⠀⠀</p>

<p>⠀⠀</p>

<p>জীবনে দ্রুত সফল হওয়ার চেয়ে সঠিক পথে এগোনো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।</p>

<p>জীবন এক নিরন্তর প্রবহমান ধারা। এই ধারার সামনে টিকে থাকার জন্যে সততা, পরিশ্রম, ধৈর্য ও নৈতিকতা -এই চারটি স্তম্ভ শক্ত করে গড়তে হবে। আর এই স্তম্ভের ওপর দাঁড়ানো সাফল্যই প্রকৃত সাফল্য। তাই কাউকে সফল বা ব্যর্থ বলার আগে একটু থামা উচিত। কারণ আমরা দেখি ঢেউয়ের তোড়, কিন্তু জানি না স্রোতের গতি। আর এই অদেখা স্রোতের কাছেই তো শেষ কথা বলার অধিকার থাকে।</p>

<p>⠀⠀</p>

<p>⠀⠀</p>

<p>⠀⠀</p>

<p>⠀⠀</p>
]]></content:encoded>
      <guid>https://infosec.press/lokmanus/jiibner-jttil-smiikrnnh-sphltaar-bhrm-o-baastbtaa</guid>
      <pubDate>Thu, 26 Feb 2026 19:14:39 +0000</pubDate>
    </item>
    <item>
      <title>ডায়েরির পাতাঃ মনের জ্যোৎস্না ও জ্বর</title>
      <link>https://infosec.press/lokmanus/ddaayyerir-paataah-mner-jyo-snaa-o-jbr</link>
      <description>&lt;![CDATA[the-moon-and-blue-red-cloud-fusion&#xA;&#xA;মৌসুমী ভৌমিকের গানটা আজ হঠাৎ মনে পড়ে গেল- “কেন শুধু শুধু ছুটে চলা, একে একে কথা বলা, নিজের জন্য বাঁচা নিজেকে নিয়ে..”। গানটা কেমন যেন আজকের দিনগুলোর মুখপাত্র হয়ে উঠেছে। শব্দগুলো শুধু সুর নয়, এখন আমার নিঃশ্বাসের অনুষঙ্গ। &#xA;&#xA;দিনগুলি এখন হিসাবের বাইরে, বিচ্ছিন্ন পাথরের মতো যার যার মত ছড়িয়ে পড়ে আছে। গতকালের সকাল আর আজকের বিকালের মধ্যে কোনো সীমানা খুঁজে পাই না। দুই দিনকে আলাদা করার জন্য নতুন কোনো শব্দ নেই অভিধানে। প্রতিদিন একই জানালা, একই আলোছায়া, একই ঘড়ির কাঁটার দৌড়। বিরক্তির ভাঁজ কপালে জমে, কিন্তু পরক্ষণেই মনে হয়- এইটুকুই বা কম কী? সময় তো আরো ভাঙচুর করতে পারত, তবু কিছুটা শৃঙ্খলা এখনো টিকে আছে।&#xA;&#xA;!--more--&#xA;&#xA;গত কয়েকদিন ধরে শরীর বিদ্রোহ করে চলেছে। একদিন তো জ্বর এসে সময়ের হিসাবই লোপাট করে দিল। চোখ মেললাম- সকাল, আবার মেললাম- দুপুর, আরেকবার- দেখলাম সন্ধ্যা ইতোমধ্যে বিদায় জানাচ্ছে। জ্বর যদিও সেরে গেছে, কিন্তু ছেড়ে গেছে গলা-ব্যথা আর তার নিষ্ঠুর সঙ্গী মাথা-ব্যথাকে। সঙ্গে সঙ্গ দেয়ার জন্যে রয়ে গেছে মৃদু কাশি- অতি পরিচিত শত্রু। কাশির স্মৃতি আমার জন্য সাবান পানিতে ভেজা চামড়ার মতো, পুরোনো এক অসুখের ছায়া মনে ভর করে। কখনো কখনো শরীর মনে করিয়ে দেয়, স্মৃতি শুধু মনের নয়, দেহের কোষেও লেখা থাকে।&#xA;&#xA;আগে যা ভালো লাগত, এখন তা ধূসর মনে হয়। বইপত্র, গান, মুভি -সব যেন পানিতে ভেজা ধূসর কাগজের মতো নিষ্প্রাণ। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো- শিশুদের দেখলে আগে যে হৃদয় গলে যেত, এখন সেখানে কোনো না কোনো জায়গায় একটি বিরক্তি দাঁড়িয়ে থাকে। মনে হয়, ওদের কোলাহল থেকে দূরে থাকি, নিঃশব্দে থাকি। এই পরিবর্তনটাই বেশি ভয়ংকর -আগে যা জীবনকে স্পর্শ করত, আজ তা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতায় পরিণত হয়েছে।&#xA;&#xA;ছুটি!&#xA;শব্দটা এখন প্রার্থনার সমার্থক। কিন্তু, এ ছুটি কেবল দৈনন্দিন রুটিন থেকে নয়, এ ছুটি এই অভ্যন্তরীণ নীরবতা থেকে, এই আবেগহীন প্রবাহ থেকে। কখনো কখনো জীবন থেকেই ছুটি নেওয়ার ইচ্ছে জাগে, একটা দীর্ঘ, শান্ত নিদ্রার মতো। কিন্তু জীবনের প্রতি এক গভীর অনুক্ত মায়া, এখনো রয়ে গেছে। যেমন- একটা পুরোনো বাড়ি, যার দরজা-জানালা ভাঙছে, কিন্তু যার প্রতিটি ধূলিকণায় স্মৃতি লেগে আছে। তাই মায়াটাও এখনো রয়ে গেছে।&#xA;&#xA;জীবন কালের এই বয়সে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি হয় যে, জীবন একইসাথে ‘বোঝা’ ও ‘বরাদ্দ’। অনেকটা পাহাড়ের মাঝপথে উঠে পেছনে ফিরে তাকানোর মতো। নিচের পথটুকু পেরিয়েছি, কিন্তু শীর্ষ ছোঁয়া এখনও বহুদূর। আর শরীরে জমা হয়েছে ক্লান্তি। তবুও এগোতে হচ্ছে, কারণ নিচে নামার পথটা অসম্ভব দুর্গম।&#xA;&#xA;আজকের এই এলোমেলো ভাবনা গুলো ডায়েরির পাতায় লিখে রাখলাম; হয়তো এই শূন্যতা পূর্ণতারই আরেক রূপ। সময় হয়তো হৃদয়কে শূন্য করে তুলছে পরবর্তী কোনো গভীর অনুভবের জন্য জায়গা তৈরি করতে। জ্বর সেরে যাওয়ার পর শরীর যেমন একটু বেশি সংবেদনশীল হয়, তেমনই হয়তো এই আত্মিক স্তব্ধতার পর কিছু দেখা বা বোঝার সূক্ষ্ম ক্ষমতা ফিরে আসবে।&#xA;&#xA;আজ শুধু এই কথাগুলোই লিখে রাখি, যেন এই মুহূর্তের ভার্চুয়াল সাক্ষী থাকে এই শব্দগুলো। হয়তো কোনো এক ভবিষ্যৎ দিনে ফিরে দেখব, এই শব্দগুলো পড়ব, আর তখন বোঝার চেষ্টা করব- যে ব্যক্তি এগুলো লিখেছিল, সে আসলে হারিয়ে যাচ্ছিল নাকি নতুন কোনো উপকূলের খোঁজ পেয়েছিল।&#xA;&#xA;জানালার বাইরে এখন রাত। দূরে কোনো বাড়ির জানালায় একটি বাতি জ্বলে আছে, এক টুকরো মানবিক উষ্ণতা। হয়তো জীবন আসলে এটাই- একটা অন্ধকারে জ্বলা বাতি খোঁজা, যে বাতি হয়তো অন্যের বারান্দায়, কিন্তু তার আলো আমাদের জানালাতেও পড়ে। আজকের মতো এটুকুই যথেষ্ট। আজ শুধু থাকব, আর শ্বাস নেব। এই অস্থির হৃদয় নিয়েই, এই অসুস্থ শরীর নিয়েই, এই স্তব্ধ সময় ধরেই।&#xA;&#xA;⠀⠀&#xA;&#xA;⠀⠀&#xA;&#xA;হয়তো, নিজেকে নিয়ে বেঁচে থাকার অর্থই হলো- এই ভাঙাচোরা মুহূর্তগুলোকেও আস্তে আস্তে, একটু একটু করে, স্পর্শ করে যাওয়া…&#xA;&#xA;⠀⠀&#xA;&#xA;⠀⠀&#xA;&#xA;⠀⠀&#xA;&#xA;]]&gt;</description>
      <content:encoded><![CDATA[<p><img src="https://images2.imgbox.com/ed/e5/yaC1ALD5_o.jpg" alt="the-moon-and-blue-red-cloud-fusion"></p>

<p>মৌসুমী ভৌমিকের গানটা আজ হঠাৎ মনে পড়ে গেল- “কেন শুধু শুধু ছুটে চলা, একে একে কথা বলা, নিজের জন্য বাঁচা নিজেকে নিয়ে..”। গানটা কেমন যেন আজকের দিনগুলোর মুখপাত্র হয়ে উঠেছে। শব্দগুলো শুধু সুর নয়, এখন আমার নিঃশ্বাসের অনুষঙ্গ।</p>

<p>দিনগুলি এখন হিসাবের বাইরে, বিচ্ছিন্ন পাথরের মতো যার যার মত ছড়িয়ে পড়ে আছে। গতকালের সকাল আর আজকের বিকালের মধ্যে কোনো সীমানা খুঁজে পাই না। দুই দিনকে আলাদা করার জন্য নতুন কোনো শব্দ নেই অভিধানে। প্রতিদিন একই জানালা, একই আলোছায়া, একই ঘড়ির কাঁটার দৌড়। বিরক্তির ভাঁজ কপালে জমে, কিন্তু পরক্ষণেই মনে হয়- এইটুকুই বা কম কী? সময় তো আরো ভাঙচুর করতে পারত, তবু কিছুটা শৃঙ্খলা এখনো টিকে আছে।</p>



<p>গত কয়েকদিন ধরে শরীর বিদ্রোহ করে চলেছে। একদিন তো জ্বর এসে সময়ের হিসাবই লোপাট করে দিল। চোখ মেললাম- সকাল, আবার মেললাম- দুপুর, আরেকবার- দেখলাম সন্ধ্যা ইতোমধ্যে বিদায় জানাচ্ছে। জ্বর যদিও সেরে গেছে, কিন্তু ছেড়ে গেছে গলা-ব্যথা আর তার নিষ্ঠুর সঙ্গী মাথা-ব্যথাকে। সঙ্গে সঙ্গ দেয়ার জন্যে রয়ে গেছে মৃদু কাশি- অতি পরিচিত শত্রু। কাশির স্মৃতি আমার জন্য সাবান পানিতে ভেজা চামড়ার মতো, পুরোনো এক অসুখের ছায়া মনে ভর করে। কখনো কখনো শরীর মনে করিয়ে দেয়, স্মৃতি শুধু মনের নয়, দেহের কোষেও লেখা থাকে।</p>

<p>আগে যা ভালো লাগত, এখন তা ধূসর মনে হয়। বইপত্র, গান, মুভি -সব যেন পানিতে ভেজা ধূসর কাগজের মতো নিষ্প্রাণ। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো- শিশুদের দেখলে আগে যে হৃদয় গলে যেত, এখন সেখানে কোনো না কোনো জায়গায় একটি বিরক্তি দাঁড়িয়ে থাকে। মনে হয়, ওদের কোলাহল থেকে দূরে থাকি, নিঃশব্দে থাকি। এই পরিবর্তনটাই বেশি ভয়ংকর -আগে যা জীবনকে স্পর্শ করত, আজ তা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতায় পরিণত হয়েছে।</p>

<p>ছুটি!
শব্দটা এখন প্রার্থনার সমার্থক। কিন্তু, এ ছুটি কেবল দৈনন্দিন রুটিন থেকে নয়, এ ছুটি এই অভ্যন্তরীণ নীরবতা থেকে, এই আবেগহীন প্রবাহ থেকে। কখনো কখনো জীবন থেকেই ছুটি নেওয়ার ইচ্ছে জাগে, একটা দীর্ঘ, শান্ত নিদ্রার মতো। কিন্তু জীবনের প্রতি এক গভীর অনুক্ত মায়া, এখনো রয়ে গেছে। যেমন- একটা পুরোনো বাড়ি, যার দরজা-জানালা ভাঙছে, কিন্তু যার প্রতিটি ধূলিকণায় স্মৃতি লেগে আছে। তাই মায়াটাও এখনো রয়ে গেছে।</p>

<p>জীবন কালের এই বয়সে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি হয় যে, জীবন একইসাথে ‘বোঝা’ ও ‘বরাদ্দ’। অনেকটা পাহাড়ের মাঝপথে উঠে পেছনে ফিরে তাকানোর মতো। নিচের পথটুকু পেরিয়েছি, কিন্তু শীর্ষ ছোঁয়া এখনও বহুদূর। আর শরীরে জমা হয়েছে ক্লান্তি। তবুও এগোতে হচ্ছে, কারণ নিচে নামার পথটা অসম্ভব দুর্গম।</p>

<p>আজকের এই এলোমেলো ভাবনা গুলো ডায়েরির পাতায় লিখে রাখলাম; হয়তো এই শূন্যতা পূর্ণতারই আরেক রূপ। সময় হয়তো হৃদয়কে শূন্য করে তুলছে পরবর্তী কোনো গভীর অনুভবের জন্য জায়গা তৈরি করতে। জ্বর সেরে যাওয়ার পর শরীর যেমন একটু বেশি সংবেদনশীল হয়, তেমনই হয়তো এই আত্মিক স্তব্ধতার পর কিছু দেখা বা বোঝার সূক্ষ্ম ক্ষমতা ফিরে আসবে।</p>

<p>আজ শুধু এই কথাগুলোই লিখে রাখি, যেন এই মুহূর্তের ভার্চুয়াল সাক্ষী থাকে এই শব্দগুলো। হয়তো কোনো এক ভবিষ্যৎ দিনে ফিরে দেখব, এই শব্দগুলো পড়ব, আর তখন বোঝার চেষ্টা করব- যে ব্যক্তি এগুলো লিখেছিল, সে আসলে হারিয়ে যাচ্ছিল নাকি নতুন কোনো উপকূলের খোঁজ পেয়েছিল।</p>

<p>জানালার বাইরে এখন রাত। দূরে কোনো বাড়ির জানালায় একটি বাতি জ্বলে আছে, এক টুকরো মানবিক উষ্ণতা। হয়তো জীবন আসলে এটাই- একটা অন্ধকারে জ্বলা বাতি খোঁজা, যে বাতি হয়তো অন্যের বারান্দায়, কিন্তু তার আলো আমাদের জানালাতেও পড়ে। আজকের মতো এটুকুই যথেষ্ট। আজ শুধু থাকব, আর শ্বাস নেব। এই অস্থির হৃদয় নিয়েই, এই অসুস্থ শরীর নিয়েই, এই স্তব্ধ সময় ধরেই।</p>

<p>⠀⠀</p>

<p>⠀⠀</p>

<p>হয়তো, নিজেকে নিয়ে বেঁচে থাকার অর্থই হলো- এই ভাঙাচোরা মুহূর্তগুলোকেও আস্তে আস্তে, একটু একটু করে, স্পর্শ করে যাওয়া…</p>

<p>⠀⠀</p>

<p>⠀⠀</p>

<p>⠀⠀</p>
]]></content:encoded>
      <guid>https://infosec.press/lokmanus/ddaayyerir-paataah-mner-jyo-snaa-o-jbr</guid>
      <pubDate>Fri, 06 Feb 2026 15:30:00 +0000</pubDate>
    </item>
    <item>
      <title>মানুষ, প্রয়োজন আর অনুভূতির অদ্ভুত হিসাবঃ Rental Family</title>
      <link>https://infosec.press/lokmanus/maanuss-pryyojn-aar-anubhuutir-adbhut-hisaabh-rental-family</link>
      <description>&lt;![CDATA[&#xA;&#xA;কিছু সিনেমা আমরা গল্পের টানে দেখি, কিছু দেখি অভিনেতার জন্য। Rental Family (2025) আমার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দলে পড়লেও, সিনেমা শেষ করে উঠে দাঁড়ানোর সময় বুঝলাম- এটা শুধু একজন অভিনেতার কামব্যাক নয়, বরং মানুষের প্রয়োজন, শূন্যতা আর অনুভূতির এক গভীর পাঠ।&#xA;&#xA;!--more--&#xA;&#xA;ব্রেন্ডন ফ্রেজার – এই নামটা আমার কাছে মানেই সদ্য কৈশোর পেরিয়ে যুব পথে এগিয়ে যাওয়া বয়সের রোমাঞ্চ। The Mummy, Journey to the Center of the Earth – এই সিনেমাগুলোয় তার উপস্থিতি ছিল প্রাণবন্ত, আত্মবিশ্বাসী, আলোয় ভরা। বহুদিন পর তার চেহারাটি পোস্টারে চোখে পড়তেই যেন পুরোনো স্মৃতি গুলো ঝলমল করে উঠলো, আর সেই টানেই বসে পড়েছিলাম “ভাড়া পরিবার” বা ‘Rental Family’ দেখতে। কিন্তু এবারের ব্রেন্ডন ফ্রেজার ছিলেন একেবারেই ভিন্ন একজন – নীরব, ভাঙা, ক্লান্ত এক মানুষ। &#xA;&#xA;এই সিনেমার Philip চরিত্রটিকে দেখে বারবার মনে হয়েছে, সে যেন ব্রেন্ডন ফ্রেজারের বাস্তব জীবনেরই এক ছায়া। একসময় যিনি অভিনয় জগতে জনপ্রিয়তার শিখরে ছিলেন, আজ তার নামই যেন ভুলে যেতে বসেছে মানুষ। জীবনের দায়ে, টিকে থাকার তাগিদে সে অভিনয় করছে। কিন্তু সেটি কোনো মঞ্চে নয়, বরং মানুষের জীবনের ফাঁকা জায়গাগুলোতে। বাবা নেই এমন শিশুর ভাড়া করা বাবা, পরিবারের সামনে একজন নারীর পরিপূর্ণতা লাভে ভাড়াটে স্বামী – এ যেন অভিনয়েরও আরেক রূপ, যেখানে ক্যামেরা নেই, কিন্তু অনুভূতি আছে। &#xA;&#xA;সিনেমাটি দেখতে দেখতে সবচেয়ে যে ভাবনাটি মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছে, তা হলো- মানুষ কত বিচিত্র উপায়ে মানুষের প্রয়োজন পূরণ করে। সমাজের প্রতিটি শূন্যস্থান কেউ না কেউ এসে ভরাট করে দেয়। কেউ পেশার খাতিরে, কেউ বাঁচার তাগিদে, কেউ বা নিঃসঙ্গতা থেকে। Rental Family যেন সেই অদ্ভুত অথচ বাস্তব পৃথিবীর দরজাটা ধীরে খুলে দেয়, যেখানে ভালোবাসা ভাড়া নেওয়া যায়, পরিবার সাময়িক হয়, কিন্তু অনুভূতিগুলো অস্থায়ী হলেও মিথ্যে নয়।&#xA;&#xA;Philip চরিত্রের সবচেয়ে মানবিক মুহূর্তটি আসে তখনই, যখন সে নিজের বহু কাঠখড় পুড়িয়ে পাওয়া একটি ডিটেকটিভ সিনেমার অফার ফিরিয়ে দেয়। এই শহর, এই দেশ ছেড়ে যেতে হবে- এই শর্তের সামনে দাঁড়িয়ে সে মনে করে ছোট্ট মেয়েটির কথা, যার বাবার ভূমিকায় অভিনয় করতে করতে সে নিজেই আবেগে জড়িয়ে পড়েছে।&#xA;&#xA;বাস্তবে কোনো সম্পর্ক নেই, কোনো রক্তের টান নেই – তবু সে মেয়েটিকে কথা দিয়েছিল, সে আর তাকে ছেড়ে যাবে না। এই দৃশ্যটি নিঃশব্দে বলে দেয়- অনুভূতির প্রতিশ্রুতি কখনো কখনো জীবনের লক্ষ্যকেও হার মানায়।&#xA;&#xA;সিনেমার আরেকটি গভীরভাবে নাড়া দেওয়া চরিত্র Kikuo Hasegawa। একসময়ের বিখ্যাত অভিনেতা, আজ স্মৃতিভ্রমে আক্রান্ত এক বৃদ্ধ। তার একটাই ইচ্ছা- শৈশবের বাড়ি, যৌবনের স্মৃতি, পরিবার নিয়ে কাটানো গ্রামের সেই নিবাসকে, সেই দিনগুলো আরেকবার দেখে আসা। কিন্তু বয়স আর রোগের দেয়ালে আটকে যায় সেই আকুতি।&#xA;&#xA;নিজের মেয়ের নিষেধ অগ্রাহ্য করে Philip-কে সঙ্গী করে সে চুপিচুপি বেরিয়ে পড়ে। এই যাত্রা শুধু একটি ভ্রমণ নয়, বরং জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্বটুকু ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা।&#xA;&#xA;আর Shinji Tada, এই চরিত্রটি যেন সবচেয়ে নগ্ন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। মানসিক শান্তির জন্য সে ভাড়া করে নেয় স্ত্রী ও সন্তান। নিজের ভেতরের শূন্যতা ঢাকতে সে মিথ্যের আশ্রয় নেয়, কারণ তার কল্পনার পরিবার বাস্তবে নেই। তবু এই মিথ্যে সম্পর্কের মাঝেও তার বেঁচে থাকার লড়াইটা করুণভাবে সত্য।&#xA;⠀⠀⠀⠀&#xA;⠀⠀⠀⠀&#xA;⠀⠀⠀⠀&#xA;Rental Family কোনো উচ্চকণ্ঠ সিনেমা নয়। এখানে নেই নাটকীয় সংলাপ, নেই বড়ো কোনো মোড়। কিন্তু প্রতিটি দৃশ্য নিঃশব্দে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়- আমরা কি সত্যিই একা? নাকি প্রয়োজন আর অভিনয়ের মাঝামাঝি কোথাও আমাদের অনুভূতিগুলো সত্যি হয়ে ওঠে?&#xA;&#xA;সিনেমাটি শেষ হওয়ার পর মনে হয়েছে, এই গল্পটা শুধু পর্দার নয়- এটা আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে। ভাড়ার সম্পর্ক, অভিনীত অনুভূতি, আর তার ভেতর জন্ম নেওয়া অপ্রত্যাশিত মানবিক বন্ধন- সব মিলিয়ে Rental Family এমন একটি সিনেমা, যা দেখে বেরিয়ে এসে মানুষ আর জীবনের দিকে নতুন করে তাকাতে ইচ্ছে করে।&#xA;&#xA;⠀⠀&#xA;&#xA;যদি আপনি নীরব, মানবিক আর ভাবনার খোরাক দেওয়া সিনেমা পছন্দ করেন, তাহলে এই সিনেমাটি আপনার দেখার তালিকায় থাকতেই পারে।&#xA;&#xA;⠀⠀&#xA;&#xA;⠀⠀&#xA;&#xA;⠀⠀&#xA;&#xA;]]&gt;</description>
      <content:encoded><![CDATA[<p><img src="https://images2.imgbox.com/b2/7b/sAuThMM5_o.jpg" alt=""></p>

<p>কিছু সিনেমা আমরা গল্পের টানে দেখি, কিছু দেখি অভিনেতার জন্য। Rental Family (2025) আমার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দলে পড়লেও, সিনেমা শেষ করে উঠে দাঁড়ানোর সময় বুঝলাম- এটা শুধু একজন অভিনেতার কামব্যাক নয়, বরং মানুষের প্রয়োজন, শূন্যতা আর অনুভূতির এক গভীর পাঠ।</p>



<p><img src="https://images2.imgbox.com/89/b4/bClm6CcB_o.jpg" alt=""></p>

<p>ব্রেন্ডন ফ্রেজার – এই নামটা আমার কাছে মানেই সদ্য কৈশোর পেরিয়ে যুব পথে এগিয়ে যাওয়া বয়সের রোমাঞ্চ। The Mummy, Journey to the Center of the Earth – এই সিনেমাগুলোয় তার উপস্থিতি ছিল প্রাণবন্ত, আত্মবিশ্বাসী, আলোয় ভরা। বহুদিন পর তার চেহারাটি পোস্টারে চোখে পড়তেই যেন পুরোনো স্মৃতি গুলো ঝলমল করে উঠলো, আর সেই টানেই বসে পড়েছিলাম “ভাড়া পরিবার” বা ‘Rental Family’ দেখতে। কিন্তু এবারের ব্রেন্ডন ফ্রেজার ছিলেন একেবারেই ভিন্ন একজন – নীরব, ভাঙা, ক্লান্ত এক মানুষ।</p>

<p>এই সিনেমার Philip চরিত্রটিকে দেখে বারবার মনে হয়েছে, সে যেন ব্রেন্ডন ফ্রেজারের বাস্তব জীবনেরই এক ছায়া। একসময় যিনি অভিনয় জগতে জনপ্রিয়তার শিখরে ছিলেন, আজ তার নামই যেন ভুলে যেতে বসেছে মানুষ। জীবনের দায়ে, টিকে থাকার তাগিদে সে অভিনয় করছে। কিন্তু সেটি কোনো মঞ্চে নয়, বরং মানুষের জীবনের ফাঁকা জায়গাগুলোতে। বাবা নেই এমন শিশুর ভাড়া করা বাবা, পরিবারের সামনে একজন নারীর পরিপূর্ণতা লাভে ভাড়াটে স্বামী – এ যেন অভিনয়েরও আরেক রূপ, যেখানে ক্যামেরা নেই, কিন্তু অনুভূতি আছে।</p>

<p>সিনেমাটি দেখতে দেখতে সবচেয়ে যে ভাবনাটি মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছে, তা হলো- মানুষ কত বিচিত্র উপায়ে মানুষের প্রয়োজন পূরণ করে। সমাজের প্রতিটি শূন্যস্থান কেউ না কেউ এসে ভরাট করে দেয়। কেউ পেশার খাতিরে, কেউ বাঁচার তাগিদে, কেউ বা নিঃসঙ্গতা থেকে। Rental Family যেন সেই অদ্ভুত অথচ বাস্তব পৃথিবীর দরজাটা ধীরে খুলে দেয়, যেখানে ভালোবাসা ভাড়া নেওয়া যায়, পরিবার সাময়িক হয়, কিন্তু অনুভূতিগুলো অস্থায়ী হলেও মিথ্যে নয়।</p>

<p><img src="https://images2.imgbox.com/aa/7e/e4oKh4HN_o.jpg" alt=""></p>

<p>Philip চরিত্রের সবচেয়ে মানবিক মুহূর্তটি আসে তখনই, যখন সে নিজের বহু কাঠখড় পুড়িয়ে পাওয়া একটি ডিটেকটিভ সিনেমার অফার ফিরিয়ে দেয়। এই শহর, এই দেশ ছেড়ে যেতে হবে- এই শর্তের সামনে দাঁড়িয়ে সে মনে করে ছোট্ট মেয়েটির কথা, যার বাবার ভূমিকায় অভিনয় করতে করতে সে নিজেই আবেগে জড়িয়ে পড়েছে।</p>

<p><img src="https://images2.imgbox.com/3c/21/Ixmv2v2N_o.jpg" alt=""></p>

<p>বাস্তবে কোনো সম্পর্ক নেই, কোনো রক্তের টান নেই – তবু সে মেয়েটিকে কথা দিয়েছিল, সে আর তাকে ছেড়ে যাবে না। এই দৃশ্যটি নিঃশব্দে বলে দেয়- অনুভূতির প্রতিশ্রুতি কখনো কখনো জীবনের লক্ষ্যকেও হার মানায়।</p>

<p><img src="https://images2.imgbox.com/95/b0/MziQQ22H_o.jpg" alt=""></p>

<p>সিনেমার আরেকটি গভীরভাবে নাড়া দেওয়া চরিত্র Kikuo Hasegawa। একসময়ের বিখ্যাত অভিনেতা, আজ স্মৃতিভ্রমে আক্রান্ত এক বৃদ্ধ। তার একটাই ইচ্ছা- শৈশবের বাড়ি, যৌবনের স্মৃতি, পরিবার নিয়ে কাটানো গ্রামের সেই নিবাসকে, সেই দিনগুলো আরেকবার দেখে আসা। কিন্তু বয়স আর রোগের দেয়ালে আটকে যায় সেই আকুতি।</p>

<p><img src="https://images2.imgbox.com/b4/d0/XSqxM8VT_o.jpg" alt=""></p>

<p>নিজের মেয়ের নিষেধ অগ্রাহ্য করে Philip-কে সঙ্গী করে সে চুপিচুপি বেরিয়ে পড়ে। এই যাত্রা শুধু একটি ভ্রমণ নয়, বরং জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্বটুকু ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা।</p>

<p><img src="https://images2.imgbox.com/34/e7/WTWnnHch_o.jpg" alt=""></p>

<p>আর Shinji Tada, এই চরিত্রটি যেন সবচেয়ে নগ্ন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। মানসিক শান্তির জন্য সে ভাড়া করে নেয় স্ত্রী ও সন্তান। নিজের ভেতরের শূন্যতা ঢাকতে সে মিথ্যের আশ্রয় নেয়, কারণ তার কল্পনার পরিবার বাস্তবে নেই। তবু এই মিথ্যে সম্পর্কের মাঝেও তার বেঁচে থাকার লড়াইটা করুণভাবে সত্য।
⠀⠀⠀⠀
⠀⠀⠀⠀
⠀⠀⠀⠀
Rental Family কোনো উচ্চকণ্ঠ সিনেমা নয়। এখানে নেই নাটকীয় সংলাপ, নেই বড়ো কোনো মোড়। কিন্তু প্রতিটি দৃশ্য নিঃশব্দে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়- আমরা কি সত্যিই একা? নাকি প্রয়োজন আর অভিনয়ের মাঝামাঝি কোথাও আমাদের অনুভূতিগুলো সত্যি হয়ে ওঠে?</p>

<p><img src="https://images2.imgbox.com/2e/b2/jQFUxSFj_o.jpg" alt=""></p>

<p>সিনেমাটি শেষ হওয়ার পর মনে হয়েছে, এই গল্পটা শুধু পর্দার নয়- এটা আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে। ভাড়ার সম্পর্ক, অভিনীত অনুভূতি, আর তার ভেতর জন্ম নেওয়া অপ্রত্যাশিত মানবিক বন্ধন- সব মিলিয়ে Rental Family এমন একটি সিনেমা, যা দেখে বেরিয়ে এসে মানুষ আর জীবনের দিকে নতুন করে তাকাতে ইচ্ছে করে।</p>

<p>⠀⠀</p>

<p>যদি আপনি নীরব, মানবিক আর ভাবনার খোরাক দেওয়া সিনেমা পছন্দ করেন, তাহলে এই সিনেমাটি আপনার দেখার তালিকায় থাকতেই পারে।</p>

<p>⠀⠀</p>

<p>⠀⠀</p>

<p>⠀⠀</p>
]]></content:encoded>
      <guid>https://infosec.press/lokmanus/maanuss-pryyojn-aar-anubhuutir-adbhut-hisaabh-rental-family</guid>
      <pubDate>Tue, 27 Jan 2026 20:30:00 +0000</pubDate>
    </item>
    <item>
      <title>শব্দ আছে, কণ্ঠ নেই.. </title>
      <link>https://infosec.press/lokmanus/shbd-aache-knntth-nei</link>
      <description>&lt;![CDATA[শব্দ আছে, কণ্ঠ নেই.. &#xA;&#xA;এই ছবিটা আমাদের রাজনীতির নীরব আত্মকথা&#xA;এখানে নেতা বলেন আর জনতা মুগ্ধ হয়&#xA;শব্দগুলো আলো জ্বালায়, আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র আঁকে&#xA;মঞ্চে দাঁড়িয়ে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিতে তালি পড়ে&#xA;&#xA;!--more--&#xA;&#xA;কিন্তু মঞ্চ থেকে নামলেই দৃশ্য বদলে যায়&#xA;স্বপ্ন পথে হাঁটতে চাইলে সিস্টেম চোখ রাঙানি দেয়&#xA;প্রশ্ন করতে গেলেই হাত বাড়ে গলার দিকে&#xA;কণ্ঠ রুদ্ধ হলে সত্য ও স্বপ্ন দু’টিই হাঁপিয়ে পড়ে&#xA;&#xA;ক্ষমতার বড়ো মুখটা ছোট মুখটাকে অভিভূত করে,&#xA;করতালির বিনিময়ে স্বপ্নের ছায়া দেখিয়ে বেড়ায়&#xA;আশ্বাসের বাণী সব মাইক্রোফোনে উন্মুক্ত,&#xA;আর মানুষ খুব সন্তর্পণে তার দীর্ঘশ্বাস লুকায়&#xA;&#xA;আমাদের রাজনীতি শব্দ ভালোবাসে,&#xA;কিন্তু কণ্ঠ সহ্য করতে পারে না&#xA;এখানে বক্তৃতা নিরাপদ, বাস্তবতা বিপজ্জনক&#xA;তবু ইতিহাস বলে-&#xA;চেপে ধরা গলাও একদিন চিৎকার শিখে ফেলে...&#xA;&#xA;ছবি কার্টেসি: Eiko Ojala]]&gt;</description>
      <content:encoded><![CDATA[<p><img src="https://images2.imgbox.com/1a/7c/Kx61AGYV_o.jpg" alt="শব্দ আছে, কণ্ঠ নেই.."></p>

<p>এই ছবিটা আমাদের রাজনীতির নীরব আত্মকথা
এখানে নেতা বলেন আর জনতা মুগ্ধ হয়
শব্দগুলো আলো জ্বালায়, আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র আঁকে
মঞ্চে দাঁড়িয়ে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিতে তালি পড়ে</p>



<p>কিন্তু মঞ্চ থেকে নামলেই দৃশ্য বদলে যায়
স্বপ্ন পথে হাঁটতে চাইলে সিস্টেম চোখ রাঙানি দেয়
প্রশ্ন করতে গেলেই হাত বাড়ে গলার দিকে
কণ্ঠ রুদ্ধ হলে সত্য ও স্বপ্ন দু’টিই হাঁপিয়ে পড়ে</p>

<p>ক্ষমতার বড়ো মুখটা ছোট মুখটাকে অভিভূত করে,
করতালির বিনিময়ে স্বপ্নের ছায়া দেখিয়ে বেড়ায়
আশ্বাসের বাণী সব মাইক্রোফোনে উন্মুক্ত,
আর মানুষ খুব সন্তর্পণে তার দীর্ঘশ্বাস লুকায়</p>

<p>আমাদের রাজনীতি শব্দ ভালোবাসে,
কিন্তু কণ্ঠ সহ্য করতে পারে না
এখানে বক্তৃতা নিরাপদ, বাস্তবতা বিপজ্জনক
তবু ইতিহাস বলে-
চেপে ধরা গলাও একদিন চিৎকার শিখে ফেলে...</p>

<p><em>ছবি কার্টেসি:</em> <a href="https://ploom.tv/editorila-illustrations-2020" rel="nofollow"><em>Eiko Ojala</em></a></p>
]]></content:encoded>
      <guid>https://infosec.press/lokmanus/shbd-aache-knntth-nei</guid>
      <pubDate>Tue, 27 Jan 2026 10:09:40 +0000</pubDate>
    </item>
    <item>
      <title>হসপিটালের ওয়েটিং রুম: ধৈর্য, অপেক্ষা আর জীবনের শিক্ষা</title>
      <link>https://infosec.press/lokmanus/life-lesson-from-the-hospital-waiting-room</link>
      <description>&lt;![CDATA[&#xA;&#xA;দুটি দরজা, একপাশে কান্নার আওয়াজ আর অন্যপাশে আনন্দের হর্ষধ্বনি। আর এদের মাঝে একটি রুম, নাম তার ‘ওয়েটিং রুম।’ যেখানে সময়ের ঘড়ি চলে ধীরগতিতে, অথচ হৃৎস্পন্দন পাগলা ঘোড়ার দ্রুতিতে ছোটে। জীবনের এই দেনা-পাওনার মঞ্চে হাসপাতাল হল সেই স্থান, যেখানে প্রতিটা মিনিটের আলাদা রঙ আছে, প্রতিটা শ্বাসের রয়েছে আলাদা অর্থ।&#xA;!--more--&#xA;চেয়ারে অপেক্ষমাণ মানুষগুলোকে দেখলে বোঝা যায়, অপেক্ষা কেমন করে তাদের উৎকণ্ঠাকে মুখভঙ্গিতে টেনে উঠিয়ে নিয়ে আসে। কারও চোখে ভয়ের কুয়াশা তো কারও ঠোঁটে নীরব প্রার্থনা, কারও হাতে প্রেসক্রিপশন চেপে ধরা তো কারও চোখে-মুখে অদৃশ্য শূন্যতা। কোণায় কোণায় অ্যান্টিসেপটিকের গন্ধ, দেয়াল ঘড়ির টিকটক-টিকটক শব্দ, ব্যাস্ততায় মুখ ভরা এটেন্ডেন্ট; পুরোটা দেখলে মনে হয় কেউ যেন সময়কে ধীর করে এসবের মাঝে পেঁচিয়ে দিয়েছে। কারও কাছে পাঁচ মিনিট এখানে অসহ্য অনন্ত, আবার এই পাঁচ মিনিটই কারো কাছে জীবনের নতুন সূর্যোদয়ের অংশ।&#xA;&#xA;এখানে ডাক্তার সাহেবের চেম্বারের দরজার দুই প্রান্তে দুইটি আলাদা জগৎ রয়েছে। চেম্বারের ভেতরে প্রবেশ করা রোগীটি মনে করে— ডাক্তার সাহেব কি ঠিকমতো আমাকে দেখছেন? এই যে দ্রুত কয়েকটা প্রশ্ন করে, দ্রুত কয়েকটা পরীক্ষা করাতে দিলেন, নাম না জানা কতোগুলো ঔষধের নাম লিখে দিলেন; এগুলোই কি যথেষ্ট? আবার বাইরে বসে থাকা মানুষটি ভাবে- একজনকে দেখতেই এত সময়! আমার সিরিয়াল কি আজ আসবে? একই সময়ে দুই বিপরীত প্রত্যাশা নিয়ে সবাই এখানে অপেক্ষা করে। কেবল নিজের সমস্যাটার বেলায় খুব মনোযোগ প্রত্যাশা করে, আর অন্যদের বেলায় কেবল বিরক্তির প্রকাশ করে। ওই একই মানুষ, একই ডাক্তার- শুধু দরজার দুই পাড়ে দাঁড়াতেই আমাদের চাওয়া-পাওয়া এখানে ভিন্নরূপ ধারণ করে।&#xA;&#xA;প্রায়ই বলতে শোনা যায়, ডাক্তার সাহেব কেমন যেন উদাসীন, আমার পুরো কথা শুনলেন না বা সবকিছু জিজ্ঞাসা করলেন না, ভালোভাবে বুঝলেন না। তাহলে কী তারা উদাসীন?!! মোটেই না, বরং দিনের পর দিন একই রকম উদ্বেগ, একই রকম ব্যথা, একই ভঙ্গির উৎকণ্ঠা, একই রকম জরুরি অবস্থা সামলাতে সামলাতে তাঁদের মুখে হাসির বদলে নিয়ম বাসা বেঁধেছে। রুক্ষ বা রুষ্ট নয় বরং এটি দায়িত্ব পূরণে আত্মরক্ষার এক পাতলা আস্তরণ; যেন আবেগে ভেসে গিয়ে হাত কাঁপে না, সিদ্ধান্ত নিতে মনে যেন কোন দোদুল্যমান অবস্থার উদ্রেক না ঘটে। একই ঘটনা ঘটে নার্সদের ব্যাপারে, তাদের রুক্ষ আচরণ আর কঠিন ব্যবহার নিয়ে আমাদের অভিযোগের অন্ত নেই। অথচ নার্সরা যেই রুক্ষ আচরণটি করে, যে “রুটিন” মেনে চলে, সেটাই তো আপনার-আমার জন্যে নিরাপত্তার ব্যারিকেড। কখন ইনজেকশন, কখন স্যালাইন, কোন ওষুধ আগে, কার প্রেসার নেমে যাচ্ছে -এসব সমীকরণের হিসেব মেলাতে একটু ঘাড় নেড়ে সান্ত্বনার প্রকাশ কিংবা আপনার অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিয়ে তারা আপনাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।&#xA;&#xA;হাসপাতালের ওয়েটিং রুমে বসে কিছু সময় ব্যয় করলে জীবনকে অন্য আলোয় দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। পাশের চেয়ারে হয়ত নতুন বাবার কাঁধে লেপটে থাকা খুশি; একটু দূরে স্ট্রেচারে শুয়ে থাকা এক বৃদ্ধার নিঃশব্দের টানা শ্বাস; কেউ চুপচাপ তসবিহ গুনছেন, কেউ ফোনে টাকার বন্দোবস্ত করছেন, কেউ রিপোর্টের শিরোনাম ধরে ধরে গুগল করা শব্দের মানে খুঁজছেন। এইসব দৃশ্যের ভিড়ে বোঝা যায়- আমাদের ব্যক্তিগত ঝড় গুলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জলোচ্ছাস নয়। বরং আজ যে যন্ত্রণায় বুক ফেটে যাচ্ছে, কালই হয়ত বুঝব আমার সেই কষ্টটা আসলে তেড়ে আসা সমুদ্র নয়, বরং সেটি ছিল সমুদ্রতীরের কেবলই ছোট্ট একটা ঢেউ।&#xA;&#xA;আমরা মানুষেরা খুবই ‘আপন কেন্দ্রিক’। নিজের বেলায় পরিপূর্ণ আকর্ষণ কামনা করি, আর পরের বেলায় খানিকটা আকর্ষণেও বিরক্তি প্রকাশ করি। অথচ হসপিটালের এই একটি কাঠামোতেই হাজার হাজার গল্প একসঙ্গে ঘটে। এখানে কারও একজনের বিলম্ব অন্য কারও বেঁচে উঠার কারণ হয়ে উঠে। এখানে একজনের একটু অপেক্ষা অন্য কারও জন্যে জীবনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সিঁড়ির একটি ধাপ হয়ে উঠে। এখানে সময় সমান্তরাল লাইন না হয়ে বিপ-বিপ শব্দ তোলা বাঁকা-তেড়া সাইন হয়ে উঠে। কপালের চিন্তার ভাজ আর গালে খুশির টোল এখানে একইসঙ্গে ঘটতে থাকে।&#xA;&#xA;শিষ্টতা, সহানুভূতি, সম্মান আর দায়বদ্ধতার এক দারুণ হারমোনি দেখা যায় হাসপাতালগুলোতে। নিজের ব্যক্তিগত বিরক্তি ঢেকে ডাক্তার সাহেব হাসিমুখে আপনার সমস্যাটি যখন জানতে চায়, তখন প্রকাশ পায় তার শিষ্টতা, রাত তিনটার ডিউটিতে বারো ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়া নার্সের হাত যখন নিখুঁতভাবে ক্যানোলা বসায়, সেটাই তার সহানুভূতি; দীর্ঘ লাইনের মাঝেও যখন ডাক্তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো পরীক্ষা লেখেন না, সেটাই তার দায়বদ্ধতা; ডায়াগনোসিস ঠিক রাখতে যখন তিনি আপনাকে পঁচিশটা প্রশ্নের বদলে সঠিক পাঁচটা প্রশ্ন করেন, সেটাই আপনার প্রতি দেখানো তার সম্মান। এই বিষয়গুলো অনুধাবনের, অনুকরণের। মমতা সবসময় হাসি দিয়ে নয়, অনেকক্ষেত্রে নীরব নির্ভুলতার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়ে থাকে।&#xA;&#xA;তবুও অভিযোগ থাকবে; হাসপাতাল মানেই কাগজপত্র, বিল, সিরিয়াল, ভিড়, হুলস্থূল, দিশেহারা অবস্থা। আমরা চাই মানবিকতা; সিস্টেম চায় শৃঙ্খলা। এই দুইয়ের মাঝখানে একটা সেতুবন্ধন প্রয়োজন। প্রয়োজন অপেক্ষার প্রতি সম্মান এবং সেবার প্রতি আস্থা। আমরা যদি প্রয়োজন আর প্রশ্নগুলোকে ভাগ করতে পারি, জিজ্ঞাসা আর চাহিদাকে সময়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করতে পারি তাহলেই ব্যাপারগুলো সহজ হয়ে উঠে। আর অন্যদিকে কাউন্টারের অপরপাশ থেকে কেউ যখন বলবে- “একটু অপেক্ষা করুন, আপনারটা আমরা দেখছি।” তখন অপেক্ষার ভারী বাতাস হালকা হয়ে উঠে। আপনি-আমি, ডাক্তার-নার্স – সবাই মিলে চাইলেই এই সেতুটি বানাতে পারি।&#xA;&#xA;সবশেষে, ওয়েটিং রুম থেকে বেরিয়ে যখন করিডর ধরে এগোতে শুরু করবেন, তখন একবার পিছনে তাকান। দেখবেন, আপনার ঠিক পরেই আরেকটি গল্প সেই একই দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। কেউ হয়ত ফোনকলে নিজের আনন্দটা প্রকাশ করছে; কেউ চুপচাপ বসে কাঁদছে; কেউ একে অপরের কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দিচ্ছে। এই ধারাবাহিকতার নামই তো জীবন। কেউ হারায়, কেউ পায়; কেউ শিখে নেয় স্থির হতে, কেউ পায় কৃতজ্ঞ হওয়ার মন্ত্রণা।&#xA;&#xA;সময়কে মানতে আর মানুষকে বুঝতে শেখায় হসপিটাল। সময়কে মানলে অপেক্ষা সহনীয় হয়; মানুষকে বুঝলে অভিযোগ হয় সংক্ষিপ্ত। পরের বার আপনি যখন ওয়েটিং রুমে বসবেন, বিরক্তিটাকে মন থেকে ঝেড়ে ফেলবেন। গভীর একটি শ্বাস নেবেন, আর মনে মনে বলবেন—”এটা কেবল একটি জার্নি, ধৈর্য আর অপেক্ষাই আমাকে পৌঁছে দেবে গন্তব্যে।” দেখা যাবে, একই ঘড়ির কাটাও তখন একটু টিক-টক শব্দ করে এগিয়ে যাবে, কিন্তু এবার সেই সুরটি বিরক্তির বদলে কোমলতা ছড়িয়ে দিবে।&#xA;&#xA;ওয়েটিং রুমের দরজা পেরিয়ে আমরা আবারও ফিরে যাবো নিজ-নিজ জীবনে। পেছনে থাকবে কর্মব্যস্ত হসপিটাল আর তার ওয়েটিং রুম। তবে ওয়েটিং রুমের সেই শিক্ষাটাও মনে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে- পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ কখনও কখনও ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা। আরও মনে রাখতে হবে- কোথাও কেউ একজন, এখনো আমাদের জন্যে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। প্রয়োজন কেবল একটু ধৈর্য, একটু আস্থার। বাকি পথ সময় নিজ দায়িত্বে হাঁটিয়ে নিয়ে যাবে।&#xA;  &#xA;  &#xA;   ]]&gt;</description>
      <content:encoded><![CDATA[<p><img src="https://images2.imgbox.com/90/9c/5jIdbJ4O_o.jpg" alt=""></p>

<p>দুটি দরজা, একপাশে কান্নার আওয়াজ আর অন্যপাশে আনন্দের হর্ষধ্বনি। আর এদের মাঝে একটি রুম, নাম তার ‘ওয়েটিং রুম।’ যেখানে সময়ের ঘড়ি চলে ধীরগতিতে, অথচ হৃৎস্পন্দন পাগলা ঘোড়ার দ্রুতিতে ছোটে। জীবনের এই দেনা-পাওনার মঞ্চে হাসপাতাল হল সেই স্থান, যেখানে প্রতিটা মিনিটের আলাদা রঙ আছে, প্রতিটা শ্বাসের রয়েছে আলাদা অর্থ।

চেয়ারে অপেক্ষমাণ মানুষগুলোকে দেখলে বোঝা যায়, অপেক্ষা কেমন করে তাদের উৎকণ্ঠাকে মুখভঙ্গিতে টেনে উঠিয়ে নিয়ে আসে। কারও চোখে ভয়ের কুয়াশা তো কারও ঠোঁটে নীরব প্রার্থনা, কারও হাতে প্রেসক্রিপশন চেপে ধরা তো কারও চোখে-মুখে অদৃশ্য শূন্যতা। কোণায় কোণায় অ্যান্টিসেপটিকের গন্ধ, দেয়াল ঘড়ির টিকটক-টিকটক শব্দ, ব্যাস্ততায় মুখ ভরা এটেন্ডেন্ট; পুরোটা দেখলে মনে হয় কেউ যেন সময়কে ধীর করে এসবের মাঝে পেঁচিয়ে দিয়েছে। কারও কাছে পাঁচ মিনিট এখানে অসহ্য অনন্ত, আবার এই পাঁচ মিনিটই কারো কাছে জীবনের নতুন সূর্যোদয়ের অংশ।</p>

<p>এখানে ডাক্তার সাহেবের চেম্বারের দরজার দুই প্রান্তে দুইটি আলাদা জগৎ রয়েছে। চেম্বারের ভেতরে প্রবেশ করা রোগীটি মনে করে— ডাক্তার সাহেব কি ঠিকমতো আমাকে দেখছেন? এই যে দ্রুত কয়েকটা প্রশ্ন করে, দ্রুত কয়েকটা পরীক্ষা করাতে দিলেন, নাম না জানা কতোগুলো ঔষধের নাম লিখে দিলেন; এগুলোই কি যথেষ্ট? আবার বাইরে বসে থাকা মানুষটি ভাবে- একজনকে দেখতেই এত সময়! আমার সিরিয়াল কি আজ আসবে? একই সময়ে দুই বিপরীত প্রত্যাশা নিয়ে সবাই এখানে অপেক্ষা করে। কেবল নিজের সমস্যাটার বেলায় খুব মনোযোগ প্রত্যাশা করে, আর অন্যদের বেলায় কেবল বিরক্তির প্রকাশ করে। ওই একই মানুষ, একই ডাক্তার- শুধু দরজার দুই পাড়ে দাঁড়াতেই আমাদের চাওয়া-পাওয়া এখানে ভিন্নরূপ ধারণ করে।</p>

<p>প্রায়ই বলতে শোনা যায়, ডাক্তার সাহেব কেমন যেন উদাসীন, আমার পুরো কথা শুনলেন না বা সবকিছু জিজ্ঞাসা করলেন না, ভালোভাবে বুঝলেন না। তাহলে কী তারা উদাসীন?!! মোটেই না, বরং দিনের পর দিন একই রকম উদ্বেগ, একই রকম ব্যথা, একই ভঙ্গির উৎকণ্ঠা, একই রকম জরুরি অবস্থা সামলাতে সামলাতে তাঁদের মুখে হাসির বদলে নিয়ম বাসা বেঁধেছে। রুক্ষ বা রুষ্ট নয় বরং এটি দায়িত্ব পূরণে আত্মরক্ষার এক পাতলা আস্তরণ; যেন আবেগে ভেসে গিয়ে হাত কাঁপে না, সিদ্ধান্ত নিতে মনে যেন কোন দোদুল্যমান অবস্থার উদ্রেক না ঘটে। একই ঘটনা ঘটে নার্সদের ব্যাপারে, তাদের রুক্ষ আচরণ আর কঠিন ব্যবহার নিয়ে আমাদের অভিযোগের অন্ত নেই। অথচ নার্সরা যেই রুক্ষ আচরণটি করে, যে “রুটিন” মেনে চলে, সেটাই তো আপনার-আমার জন্যে নিরাপত্তার ব্যারিকেড। কখন ইনজেকশন, কখন স্যালাইন, কোন ওষুধ আগে, কার প্রেসার নেমে যাচ্ছে -এসব সমীকরণের হিসেব মেলাতে একটু ঘাড় নেড়ে সান্ত্বনার প্রকাশ কিংবা আপনার অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিয়ে তারা আপনাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।</p>

<p>হাসপাতালের ওয়েটিং রুমে বসে কিছু সময় ব্যয় করলে জীবনকে অন্য আলোয় দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। পাশের চেয়ারে হয়ত নতুন বাবার কাঁধে লেপটে থাকা খুশি; একটু দূরে স্ট্রেচারে শুয়ে থাকা এক বৃদ্ধার নিঃশব্দের টানা শ্বাস; কেউ চুপচাপ তসবিহ গুনছেন, কেউ ফোনে টাকার বন্দোবস্ত করছেন, কেউ রিপোর্টের শিরোনাম ধরে ধরে গুগল করা শব্দের মানে খুঁজছেন। এইসব দৃশ্যের ভিড়ে বোঝা যায়- আমাদের ব্যক্তিগত ঝড় গুলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জলোচ্ছাস নয়। বরং আজ যে যন্ত্রণায় বুক ফেটে যাচ্ছে, কালই হয়ত বুঝব আমার সেই কষ্টটা আসলে তেড়ে আসা সমুদ্র নয়, বরং সেটি ছিল সমুদ্রতীরের কেবলই ছোট্ট একটা ঢেউ।</p>

<p>আমরা মানুষেরা খুবই ‘আপন কেন্দ্রিক’। নিজের বেলায় পরিপূর্ণ আকর্ষণ কামনা করি, আর পরের বেলায় খানিকটা আকর্ষণেও বিরক্তি প্রকাশ করি। অথচ হসপিটালের এই একটি কাঠামোতেই হাজার হাজার গল্প একসঙ্গে ঘটে। এখানে কারও একজনের বিলম্ব অন্য কারও বেঁচে উঠার কারণ হয়ে উঠে। এখানে একজনের একটু অপেক্ষা অন্য কারও জন্যে জীবনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সিঁড়ির একটি ধাপ হয়ে উঠে। এখানে সময় সমান্তরাল লাইন না হয়ে বিপ-বিপ শব্দ তোলা বাঁকা-তেড়া সাইন হয়ে উঠে। কপালের চিন্তার ভাজ আর গালে খুশির টোল এখানে একইসঙ্গে ঘটতে থাকে।</p>

<p>শিষ্টতা, সহানুভূতি, সম্মান আর দায়বদ্ধতার এক দারুণ হারমোনি দেখা যায় হাসপাতালগুলোতে। নিজের ব্যক্তিগত বিরক্তি ঢেকে ডাক্তার সাহেব হাসিমুখে আপনার সমস্যাটি যখন জানতে চায়, তখন প্রকাশ পায় তার শিষ্টতা, রাত তিনটার ডিউটিতে বারো ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়া নার্সের হাত যখন নিখুঁতভাবে ক্যানোলা বসায়, সেটাই তার সহানুভূতি; দীর্ঘ লাইনের মাঝেও যখন ডাক্তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো পরীক্ষা লেখেন না, সেটাই তার দায়বদ্ধতা; ডায়াগনোসিস ঠিক রাখতে যখন তিনি আপনাকে পঁচিশটা প্রশ্নের বদলে সঠিক পাঁচটা প্রশ্ন করেন, সেটাই আপনার প্রতি দেখানো তার সম্মান। এই বিষয়গুলো অনুধাবনের, অনুকরণের। মমতা সবসময় হাসি দিয়ে নয়, অনেকক্ষেত্রে নীরব নির্ভুলতার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়ে থাকে।</p>

<p>তবুও অভিযোগ থাকবে; হাসপাতাল মানেই কাগজপত্র, বিল, সিরিয়াল, ভিড়, হুলস্থূল, দিশেহারা অবস্থা। আমরা চাই মানবিকতা; সিস্টেম চায় শৃঙ্খলা। এই দুইয়ের মাঝখানে একটা সেতুবন্ধন প্রয়োজন। প্রয়োজন অপেক্ষার প্রতি সম্মান এবং সেবার প্রতি আস্থা। আমরা যদি প্রয়োজন আর প্রশ্নগুলোকে ভাগ করতে পারি, জিজ্ঞাসা আর চাহিদাকে সময়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করতে পারি তাহলেই ব্যাপারগুলো সহজ হয়ে উঠে। আর অন্যদিকে কাউন্টারের অপরপাশ থেকে কেউ যখন বলবে- “একটু অপেক্ষা করুন, আপনারটা আমরা দেখছি।” তখন অপেক্ষার ভারী বাতাস হালকা হয়ে উঠে। আপনি-আমি, ডাক্তার-নার্স – সবাই মিলে চাইলেই এই সেতুটি বানাতে পারি।</p>

<p>সবশেষে, ওয়েটিং রুম থেকে বেরিয়ে যখন করিডর ধরে এগোতে শুরু করবেন, তখন একবার পিছনে তাকান। দেখবেন, আপনার ঠিক পরেই আরেকটি গল্প সেই একই দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। কেউ হয়ত ফোনকলে নিজের আনন্দটা প্রকাশ করছে; কেউ চুপচাপ বসে কাঁদছে; কেউ একে অপরের কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দিচ্ছে। এই ধারাবাহিকতার নামই তো জীবন। কেউ হারায়, কেউ পায়; কেউ শিখে নেয় স্থির হতে, কেউ পায় কৃতজ্ঞ হওয়ার মন্ত্রণা।</p>

<p>সময়কে মানতে আর মানুষকে বুঝতে শেখায় হসপিটাল। সময়কে মানলে অপেক্ষা সহনীয় হয়; মানুষকে বুঝলে অভিযোগ হয় সংক্ষিপ্ত। পরের বার আপনি যখন ওয়েটিং রুমে বসবেন, বিরক্তিটাকে মন থেকে ঝেড়ে ফেলবেন। গভীর একটি শ্বাস নেবেন, আর মনে মনে বলবেন—”এটা কেবল একটি জার্নি, ধৈর্য আর অপেক্ষাই আমাকে পৌঁছে দেবে গন্তব্যে।” দেখা যাবে, একই ঘড়ির কাটাও তখন একটু টিক-টক শব্দ করে এগিয়ে যাবে, কিন্তু এবার সেই সুরটি বিরক্তির বদলে কোমলতা ছড়িয়ে দিবে।</p>

<p>ওয়েটিং রুমের দরজা পেরিয়ে আমরা আবারও ফিরে যাবো নিজ-নিজ জীবনে। পেছনে থাকবে কর্মব্যস্ত হসপিটাল আর তার ওয়েটিং রুম। তবে ওয়েটিং রুমের সেই শিক্ষাটাও মনে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে- পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ কখনও কখনও ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা। আরও মনে রাখতে হবে- কোথাও কেউ একজন, এখনো আমাদের জন্যে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। প্রয়োজন কেবল একটু ধৈর্য, একটু আস্থার। বাকি পথ সময় নিজ দায়িত্বে হাঁটিয়ে নিয়ে যাবে।</p>
]]></content:encoded>
      <guid>https://infosec.press/lokmanus/life-lesson-from-the-hospital-waiting-room</guid>
      <pubDate>Tue, 02 Sep 2025 06:48:40 +0000</pubDate>
    </item>
    <item>
      <title>ডায়েরিঃ আগস্ট ২৫, ২০২৫ঈ ॥ ১০১ দিন</title>
      <link>https://infosec.press/lokmanus/diary-august-25-2025-101-din</link>
      <description>&lt;![CDATA[পৃথিবী তার নিজস্ব নিয়মে চলছে। সূর্য ওঠছে, আবার নিয়ম মেনে অস্ত যাচ্ছে; রাত নামছে, ফের ভোর আসছে; মানুষ আসছে-যাচ্ছে, বাঁচছে-মরছে; সবকিছু আগের মতোই চলছে। কিন্তু আমার কাছে পৃথিবীর রূপ আর আগের মতো নেই। পৃথিবীটাকে আমি আর আগের চোখে দেখতে পারি না। কারণ এই পৃথিবীতে জীবনধারণের ধরণ বদলে গেছে। সম্পর্কের ধরন পাল্টে গেছে, বিশ্বাসের ভিত্তি নড়ে গেছে, আর ভরসার জায়গাগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে।&#xA;&#xA;আমি ভেবেছিলাম- কষ্ট গুলো ধীরে ধীরে মুছে যায়, সময়ের সাথে সাথে ক্ষতস্থান শুকিয়ে আসে। কিন্তু বাস্তবতা !--more-- আমাকে অন্য শিক্ষা দিয়েছে। কষ্ট আসলে কখনোই মুছে যায় না, ম্লান হয়ে বিবর্ণও হয় না; বরং সময় তাকে আরও প্রকট ভাবে দৃশ্যমান করে তোলে। যত দিন যায়, কষ্ট তত গভীরভাবে হৃদয়ে গেঁথে বসে। ক্ষণিকের আঘাত সময়ের প্রবাহে গাঢ় ক্ষতচিহ্নে পরিণত হয়, আর সেই দাগ চিরস্থায়ী হয়ে যায়।&#xA;&#xA;মানুষের প্রতি বিশ্বাস, ভরসা আর সম্মান- যা একসময় আমার কাছে অবিচল সত্য মনে হয়েছিল; এখন ক্রমেই ক্ষয়ে যাচ্ছে। জীবনের অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে, মানুষকে সহজভাবে বিশ্বাস করা ছিল মস্ত ভুলের একটি। আমি যাদের কাছে আদর্শ খুঁজি, যাদের চোখে সাধুতা দেখি, তাদের ভেতরে আসলে এমন কিছু নেই। সবাই প্রয়োজনের খাতিরে সাধু হয়, আর প্রয়োজন ফুরোলেই সাধু ভং ধরা মুখোশটা খুলে কুটিলতায় ভরা প্রকৃত মুখটি প্রকাশ করে। মানুষের এই দ্বিমুখী চরিত্র এত কাছ থেকে না দেখলে হয়ত কখনো বিশ্বাস করতাম না।&#xA;&#xA;এই অল্প কয়েকদিনে জীবনের আরেকটি কঠিন সত্যও উপলব্ধি করেছি। যে সকল মানুষের হৃদয়ের ভেতর কুটিলতা ভর করেছে, যাদের হৃদয় কালশিটে ময়লা পড়ে পচে গেছে, যাদের চিন্তাধারায় কুটিলতা আর অনিষ্ট ছাড়া ভিন্ন কিছু কাজ করে না; তাদের সাথে আপনি যতই ভালো ব্যবহার করেন না কেন, যতই ধৈর্য ধারে সহ্য করে সমস্যার সমাধান খুঁজতে চান না কেন, কোনো লাভ নেই। তাদের স্বভাব পাল্টায় না, পাল্টাবার নয়। এদের মোহর লাগানো হৃদয়ের কথাই ওপরওয়ালা আমাদের বলেছেন, বিধাতার হুকুম ছাড়া এই মোহর আর কখনোই পরিষ্কার হবে না। বরং এই কুটিলতায় পূর্ণ নরকের কীট গুলো খুঁজে খুঁজে আপনার দুর্বলতা বের করে আপনাকে আরও গভীর সমস্যায় ফেলে দেবে।&#xA;&#xA;আমার শূন্য হয়ে পড়া পৃথিবীটার বয়স আজ ১০১ দিন। ঠিক ১০০ দিন পূর্বে আমার আম্মা এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে আপন শান্তির নিবাস খুঁজে নিয়েছেন। দিন হিসেবে ১০০ দিন খুব নগণ্য হলেও এই ১০০ দিনের পৃথিবী আমাকে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে, যেখানে নেই মায়ের মমতা, নেই সেই নির্ভরতার ছায়া। আছে কেবল ভান করা মায়া, সমাজের সামনে যাত্রা-নাটক প্রদর্শন করার মতো ভদ্রতা, আর স্বার্থের ফাঁদে জড়িয়ে থাকা সম্পর্ক। এই ১০০ দিনেই ‘পরিচিত’ আর ‘কাছের’ নামধারী সম্পর্ক গুলো চোখের পলকেই গিরগিটির মত নিজ নিজ রঙ বদলে নিয়েছে।&#xA;&#xA;আমি কখনো ভাবিনি আম্মা আমাদের এত দ্রুত ছেড়ে চলে যাবেন। আমি ভেবেছিলাম আম্মা অন্তত আরও বিশটি বছর আমাদের সঙ্গে থাকবেন। আম্মার ছায়াশীতল মমতা আমাদের আগলে রাখবে, তার ভরসার আঁচল আকাশ হয়ে থাকবে মাথার উপরে। কিন্তু হঠাৎ করেই সবকিছু থেমে গেল। যে মানুষটির অবলম্বনে ভরসার স্তম্ভ ভেবে নিয়েছিলাম, তিনি হঠাৎ করেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। আর তার অনুপস্থিতি আমার হৃদয়ে এক বিশাল অবিশ্বাসের দেয়াল তুলে দিল।&#xA;&#xA;আজ মনে হয়, ছোটবেলা থেকে যে মূল্যবোধের শিক্ষা পেয়েছিলাম, সেগুলো আসলে বাস্তব জীবনে অকার্যকর। সততা, নীতিকথা, সত্য-বচন -এসব আঁকড়ে ধরে আমি শুধু পিছিয়েই পড়েছি। আর চারপাশের মানুষগুলো নিজেদের স্বার্থের জন্য কোনোকিছু করতে দ্বিধা করেনি। এই ১০০ দিনে আমি দেখেছি রক্তের সম্পর্কও কেমন করে বিশ্বাসঘাতক হয়ে যায়। যাদের একসময় নিজের বলতে শিখেছিলাম, যাদের আপন ভেবে স্বস্তি আর মনের তৃপ্তি বুঝে নিতাম; তারাই স্বার্থ হাসিলে বেইমান হয়ে উঠেছে। মানুষ যে এতটা স্বার্থপর হতে পারে, এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, এত বড় মাপের নিমকহারাম হতে পারে; এমন করে না দেখলে কখনোই বিশ্বাস করতাম না।&#xA;&#xA;সব আক্ষেপ, সব হতাশা, সব কষ্ট আর সব বেদনার শেষে আমার একমাত্র প্রার্থনা- মহান আল্লাহ যেন আমার আম্মাকে পরিপূর্ণ শান্তি দান করেন। তিনি যেন হাসরের ময়দানে আম্মাকে হাউজে কাউসারের শীতল পানীয় দিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করান। আর জান্নাতুল ফেরদৌসকে আম্মার জন্যে স্থায়ী আবাস হিসেবে ঘোষণা করে দেন।&#xA;&#xA;আমার জীবন আজ শূন্যতায় ভরা। কিন্তু সেই শূন্যতার ভেতরও আমি মায়ের শান্তির জন্য হৃদয়ের অন্তঃস্থল হতে দোয়া করি। কারণ আমার সমস্ত বিশ্বাস, ভরসা আর আশ্রয় এক মানুষেই ছিল -আমার আম্মা। আর আজ তিনি নেই… ১০১ দিন।&#xA; &#xA; &#xA; ]]&gt;</description>
      <content:encoded><![CDATA[<p>পৃথিবী তার নিজস্ব নিয়মে চলছে। সূর্য ওঠছে, আবার নিয়ম মেনে অস্ত যাচ্ছে; রাত নামছে, ফের ভোর আসছে; মানুষ আসছে-যাচ্ছে, বাঁচছে-মরছে; সবকিছু আগের মতোই চলছে। কিন্তু আমার কাছে পৃথিবীর রূপ আর আগের মতো নেই। পৃথিবীটাকে আমি আর আগের চোখে দেখতে পারি না। কারণ এই পৃথিবীতে জীবনধারণের ধরণ বদলে গেছে। সম্পর্কের ধরন পাল্টে গেছে, বিশ্বাসের ভিত্তি নড়ে গেছে, আর ভরসার জায়গাগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে।</p>

<p><img src="https://images2.imgbox.com/62/7e/ufypqDgc_o.jpg" alt=""></p>

<p>আমি ভেবেছিলাম- কষ্ট গুলো ধীরে ধীরে মুছে যায়, সময়ের সাথে সাথে ক্ষতস্থান শুকিয়ে আসে। কিন্তু বাস্তবতা  আমাকে অন্য শিক্ষা দিয়েছে। কষ্ট আসলে কখনোই মুছে যায় না, ম্লান হয়ে বিবর্ণও হয় না; বরং সময় তাকে আরও প্রকট ভাবে দৃশ্যমান করে তোলে। যত দিন যায়, কষ্ট তত গভীরভাবে হৃদয়ে গেঁথে বসে। ক্ষণিকের আঘাত সময়ের প্রবাহে গাঢ় ক্ষতচিহ্নে পরিণত হয়, আর সেই দাগ চিরস্থায়ী হয়ে যায়।</p>

<p>মানুষের প্রতি বিশ্বাস, ভরসা আর সম্মান- যা একসময় আমার কাছে অবিচল সত্য মনে হয়েছিল; এখন ক্রমেই ক্ষয়ে যাচ্ছে। জীবনের অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে, মানুষকে সহজভাবে বিশ্বাস করা ছিল মস্ত ভুলের একটি। আমি যাদের কাছে আদর্শ খুঁজি, যাদের চোখে সাধুতা দেখি, তাদের ভেতরে আসলে এমন কিছু নেই। সবাই প্রয়োজনের খাতিরে সাধু হয়, আর প্রয়োজন ফুরোলেই সাধু ভং ধরা মুখোশটা খুলে কুটিলতায় ভরা প্রকৃত মুখটি প্রকাশ করে। মানুষের এই দ্বিমুখী চরিত্র এত কাছ থেকে না দেখলে হয়ত কখনো বিশ্বাস করতাম না।</p>

<p>এই অল্প কয়েকদিনে জীবনের আরেকটি কঠিন সত্যও উপলব্ধি করেছি। যে সকল মানুষের হৃদয়ের ভেতর কুটিলতা ভর করেছে, যাদের হৃদয় কালশিটে ময়লা পড়ে পচে গেছে, যাদের চিন্তাধারায় কুটিলতা আর অনিষ্ট ছাড়া ভিন্ন কিছু কাজ করে না; তাদের সাথে আপনি যতই ভালো ব্যবহার করেন না কেন, যতই ধৈর্য ধারে সহ্য করে সমস্যার সমাধান খুঁজতে চান না কেন, কোনো লাভ নেই। তাদের স্বভাব পাল্টায় না, পাল্টাবার নয়। এদের মোহর লাগানো হৃদয়ের কথাই ওপরওয়ালা আমাদের বলেছেন, বিধাতার হুকুম ছাড়া এই মোহর আর কখনোই পরিষ্কার হবে না। বরং এই কুটিলতায় পূর্ণ নরকের কীট গুলো খুঁজে খুঁজে আপনার দুর্বলতা বের করে আপনাকে আরও গভীর সমস্যায় ফেলে দেবে।</p>

<p>আমার শূন্য হয়ে পড়া পৃথিবীটার বয়স আজ ১০১ দিন। ঠিক ১০০ দিন পূর্বে আমার আম্মা এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে আপন শান্তির নিবাস খুঁজে নিয়েছেন। দিন হিসেবে ১০০ দিন খুব নগণ্য হলেও এই ১০০ দিনের পৃথিবী আমাকে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে, যেখানে নেই মায়ের মমতা, নেই সেই নির্ভরতার ছায়া। আছে কেবল ভান করা মায়া, সমাজের সামনে যাত্রা-নাটক প্রদর্শন করার মতো ভদ্রতা, আর স্বার্থের ফাঁদে জড়িয়ে থাকা সম্পর্ক। এই ১০০ দিনেই ‘পরিচিত’ আর ‘কাছের’ নামধারী সম্পর্ক গুলো চোখের পলকেই গিরগিটির মত নিজ নিজ রঙ বদলে নিয়েছে।</p>

<p>আমি কখনো ভাবিনি আম্মা আমাদের এত দ্রুত ছেড়ে চলে যাবেন। আমি ভেবেছিলাম আম্মা অন্তত আরও বিশটি বছর আমাদের সঙ্গে থাকবেন। আম্মার ছায়াশীতল মমতা আমাদের আগলে রাখবে, তার ভরসার আঁচল আকাশ হয়ে থাকবে মাথার উপরে। কিন্তু হঠাৎ করেই সবকিছু থেমে গেল। যে মানুষটির অবলম্বনে ভরসার স্তম্ভ ভেবে নিয়েছিলাম, তিনি হঠাৎ করেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। আর তার অনুপস্থিতি আমার হৃদয়ে এক বিশাল অবিশ্বাসের দেয়াল তুলে দিল।</p>

<p>আজ মনে হয়, ছোটবেলা থেকে যে মূল্যবোধের শিক্ষা পেয়েছিলাম, সেগুলো আসলে বাস্তব জীবনে অকার্যকর। সততা, নীতিকথা, সত্য-বচন -এসব আঁকড়ে ধরে আমি শুধু পিছিয়েই পড়েছি। আর চারপাশের মানুষগুলো নিজেদের স্বার্থের জন্য কোনোকিছু করতে দ্বিধা করেনি। এই ১০০ দিনে আমি দেখেছি রক্তের সম্পর্কও কেমন করে বিশ্বাসঘাতক হয়ে যায়। যাদের একসময় নিজের বলতে শিখেছিলাম, যাদের আপন ভেবে স্বস্তি আর মনের তৃপ্তি বুঝে নিতাম; তারাই স্বার্থ হাসিলে বেইমান হয়ে উঠেছে। মানুষ যে এতটা স্বার্থপর হতে পারে, এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, এত বড় মাপের নিমকহারাম হতে পারে; এমন করে না দেখলে কখনোই বিশ্বাস করতাম না।</p>

<p>সব আক্ষেপ, সব হতাশা, সব কষ্ট আর সব বেদনার শেষে আমার একমাত্র প্রার্থনা- মহান আল্লাহ যেন আমার আম্মাকে পরিপূর্ণ শান্তি দান করেন। তিনি যেন হাসরের ময়দানে আম্মাকে হাউজে কাউসারের শীতল পানীয় দিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করান। আর জান্নাতুল ফেরদৌসকে আম্মার জন্যে স্থায়ী আবাস হিসেবে ঘোষণা করে দেন।</p>

<p>আমার জীবন আজ শূন্যতায় ভরা। কিন্তু সেই শূন্যতার ভেতরও আমি মায়ের শান্তির জন্য হৃদয়ের অন্তঃস্থল হতে দোয়া করি। কারণ আমার সমস্ত বিশ্বাস, ভরসা আর আশ্রয় এক মানুষেই ছিল -আমার আম্মা। আর আজ তিনি নেই… ১০১ দিন।</p>
]]></content:encoded>
      <guid>https://infosec.press/lokmanus/diary-august-25-2025-101-din</guid>
      <pubDate>Mon, 25 Aug 2025 10:40:00 +0000</pubDate>
    </item>
    <item>
      <title>একদিন ঠিক হারাবো গিয়ে বনে…</title>
      <link>https://infosec.press/lokmanus/ekdin-tthik-haaraabo-giyye-bne</link>
      <description>&lt;![CDATA[&#xA;&#xA;প্রায়ই আমার এই শহরের ভিড় থেকে পালাতে ইচ্ছা করে।&#xA;এই যে অলিগলি রাস্তা জুড়ে হাজর মানুষের হাঁটা-চলা, যান্ত্রিক জীবনের অনবরত শব্দ; এসবের মাঝে নিজেকে আমার দারুণ বন্দী মনে হয়। যদিও খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকার জন্যই এই শহর জীবন, কিন্তু সে তো আমাকে মুক্ত ভাবে শ্বাস নিতে দেয় না। কংক্রিটের এই জঙ্গলে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন মনে হয়, আমি ভুলে যাচ্ছি মুক্ত জীবনের স্বাদ।&#xA;!--more--&#xA;হয়ত এই কারণেই মনে মনে ইচ্ছে হয় কোন এক হাঁটা-পা এর রাস্তা ধরে অচেনা কোন গহিন বনে হারাতে। আঁকাবাঁকা পথ, পাতায় ঢাকা, রঙে রঙে মোড়া পথ, কোলাহল বিহীন সেই পথে হেঁটে বেড়াতে। সেই বন আর বনের পথটি হবে একান্তই আমার নিজের।&#xA;&#xA;শহরে বুকে কখনো যে গন্ধ মিলে না, সেই গন্ধে ভরে থাকবে আমার সেই বুনো পথ। মাটির কাঁচা গন্ধ, ঝড়া পাতার অচেনা সুরভি, আর হয়ত কোন অদৃশ্য ফুলের মৃদু সুবাস। সেখানে শ্বাস নিতে গিয়ে মনে হবে- আমি বেঁচে আছি, সত্যিই বেঁচে আছি। শহরের ধোঁয়া, গ্যাস, বর্জ্য কিংবা কৃত্রিম সুবাস এই সবই সেখানে থাকবে কেবলই এক দুঃস্বপ্ন হয়ে।&#xA;&#xA;বনের গভীর নিস্তব্ধতাকে আগলে নেবো নিজের অস্তিত্বের সাথে। সেখানে থাকবে না এলোমেলো ব্যস্ত পদচারণা, থাকবে না কুৎসিত হর্ন, থাকবে না ট্র্যাফিক জ্যাম, থাকবে না পিচের গরম। থাকবে কেবল পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ, থাকবে শুকনো পাতার উপর দিয়ে দৌড়ে যাওয়া অচেনা কোন প্রাণীর পদচারণা, থাকবে বাতাসের ফিস‍্‍‍ফিসানি আর থাকবে অন্তর জুড়ানো গাছের ছায়া। এই সবই প্রকৃতির আপন স্পর্শ, এগুলোই পৃথিবীর আসল ভাষা; যা আমরা ভুলে গেছি এই কোলাহলে মত্ত হয়ে।&#xA;&#xA;ফ্লুরোসেন্টের আলোর নিচে বসে এখন আমি এক অন্ধকার পৃথিবী দেখি। এই আলো হৃদয়ের গহিন কোণকে আলোকিত করতে পারে না। অথচ আমার সেই অরণ্যে খেলা করে বিস্ময়ের আলো নিয়ে। পাতার ফাঁক গলে যখন সূর্যের আলো যখন মাটির গায়ে পড়ে, মনে হয় যেন ছোট ছোট আলোর কণা মিছিল করছে সেখানে। আবার মাঝে মাঝে আলোর রশ্মি গুলো এমন এক বিভ্রম তৈরি করে, যেন মনে হয় সেখানে রয়েছে এক আলোর ঝলমলে দেয়াল। দেয়ালের ওপারে রয়েছে অন্য এক জগৎ, যেখানে নেই কোন দায়িত্ব, নেই কোন দৌড়ঝাঁপ, নেই কোন একঘেয়েমি। শুধু শান্তি- নির্মল, অনাবিল শান্তির বাস সেখানে।&#xA;&#xA;এই যে শহরজুড়ে গায়ের সাথে গা ঘেঁষে তৈরি হয়েছে আকাশছোঁয়া দালানের জঞ্জাল। একের পর এক বিল্ডিং, যার জানালা দিয়ে নিচে তাকালে কেবল দেখা মেলে ছুটে চলা শহর, ধুলো, কালো ধোঁয়া আর মেকি জীবনের দৌড়ঝাঁপ। এখানকার প্রতিটি দালান, প্রতিটি ফ্ল্যাট, প্রতিটি খোপ-খোপ রুম যেন এক একটি কারাগার। জীবনের মায়ায় অন্ধ হওয়ার দোষে সবাইকে সেই কারাগার যাপনের আদেশ দেয়া হয়েছে এখানে। অথচ আমার বনে প্রতিটি গাছই জানালা, প্রতিটি পথ মুক্তির, আর বহমান বাতাসে বাজে জীবনের সুর।&#xA;&#xA;আমার ভেতরের আমিটা বারবার বলে উঠে- “বারবার হারিয়ে যাও তোমার আরণ্যের গভীর থেকে গভীরে; ক্লান্তি ঘিরে ফেলার আগ পর্যন্ত হেঁটে বেড়াও আঁকাবাঁকা পথটি ধরে।” হয়ত কোনো একদিন সত্যিই সব ছেড়ে দিয়ে চলে যাবো। খুঁজে বের করবো আমার সেই প্রিয় বনটিকে অজানা কোন প্রান্তে। যেখানে আমার সাথে থাকবে কেবল ‘আমি’। গাছ, পাখি, পো‌ঁকা আর মাটি -সবাই মিলে ঘুচিয়ে দিবে আমার হৃদয়ের অসীম নিঃসঙ্গতা।&#xA;&#xA;তখন আর আমি এই শহুরে মানুষ থাকবো না; আমি হবো বনের সন্তান…&#xA;&#xA;⠀⠀⠀⠀&#xA;&#xA;⠀⠀⠀⠀&#xA;&#xA;⠀⠀⠀⠀&#xA;&#xA;ছবি-সূত্রঃ u/myriyevskyy]]&gt;</description>
      <content:encoded><![CDATA[<p><img src="https://i.ibb.co.com/7NvrYrf7/PI-ekdin-harabo-gie-bone.jpg" alt=""></p>

<p>প্রায়ই আমার এই শহরের ভিড় থেকে পালাতে ইচ্ছা করে।
এই যে অলিগলি রাস্তা জুড়ে হাজর মানুষের হাঁটা-চলা, যান্ত্রিক জীবনের অনবরত শব্দ; এসবের মাঝে নিজেকে আমার দারুণ বন্দী মনে হয়। যদিও খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকার জন্যই এই শহর জীবন, কিন্তু সে তো আমাকে মুক্ত ভাবে শ্বাস নিতে দেয় না। কংক্রিটের এই জঙ্গলে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন মনে হয়, আমি ভুলে যাচ্ছি মুক্ত জীবনের স্বাদ।

হয়ত এই কারণেই মনে মনে ইচ্ছে হয় কোন এক হাঁটা-পা এর রাস্তা ধরে অচেনা কোন গহিন বনে হারাতে। আঁকাবাঁকা পথ, পাতায় ঢাকা, রঙে রঙে মোড়া পথ, কোলাহল বিহীন সেই পথে হেঁটে বেড়াতে। সেই বন আর বনের পথটি হবে একান্তই আমার নিজের।</p>

<p>শহরে বুকে কখনো যে গন্ধ মিলে না, সেই গন্ধে ভরে থাকবে আমার সেই বুনো পথ। মাটির কাঁচা গন্ধ, ঝড়া পাতার অচেনা সুরভি, আর হয়ত কোন অদৃশ্য ফুলের মৃদু সুবাস। সেখানে শ্বাস নিতে গিয়ে মনে হবে- আমি বেঁচে আছি, সত্যিই বেঁচে আছি। শহরের ধোঁয়া, গ্যাস, বর্জ্য কিংবা কৃত্রিম সুবাস এই সবই সেখানে থাকবে কেবলই এক দুঃস্বপ্ন হয়ে।</p>

<p>বনের গভীর নিস্তব্ধতাকে আগলে নেবো নিজের অস্তিত্বের সাথে। সেখানে থাকবে না এলোমেলো ব্যস্ত পদচারণা, থাকবে না কুৎসিত হর্ন, থাকবে না ট্র্যাফিক জ্যাম, থাকবে না পিচের গরম। থাকবে কেবল পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ, থাকবে শুকনো পাতার উপর দিয়ে দৌড়ে যাওয়া অচেনা কোন প্রাণীর পদচারণা, থাকবে বাতাসের ফিস‍্‍‍ফিসানি আর থাকবে অন্তর জুড়ানো গাছের ছায়া। এই সবই প্রকৃতির আপন স্পর্শ, এগুলোই পৃথিবীর আসল ভাষা; যা আমরা ভুলে গেছি এই কোলাহলে মত্ত হয়ে।</p>

<p>ফ্লুরোসেন্টের আলোর নিচে বসে এখন আমি এক অন্ধকার পৃথিবী দেখি। এই আলো হৃদয়ের গহিন কোণকে আলোকিত করতে পারে না। অথচ আমার সেই অরণ্যে খেলা করে বিস্ময়ের আলো নিয়ে। পাতার ফাঁক গলে যখন সূর্যের আলো যখন মাটির গায়ে পড়ে, মনে হয় যেন ছোট ছোট আলোর কণা মিছিল করছে সেখানে। আবার মাঝে মাঝে আলোর রশ্মি গুলো এমন এক বিভ্রম তৈরি করে, যেন মনে হয় সেখানে রয়েছে এক আলোর ঝলমলে দেয়াল। দেয়ালের ওপারে রয়েছে অন্য এক জগৎ, যেখানে নেই কোন দায়িত্ব, নেই কোন দৌড়ঝাঁপ, নেই কোন একঘেয়েমি। শুধু শান্তি- নির্মল, অনাবিল শান্তির বাস সেখানে।</p>

<p>এই যে শহরজুড়ে গায়ের সাথে গা ঘেঁষে তৈরি হয়েছে আকাশছোঁয়া দালানের জঞ্জাল। একের পর এক বিল্ডিং, যার জানালা দিয়ে নিচে তাকালে কেবল দেখা মেলে ছুটে চলা শহর, ধুলো, কালো ধোঁয়া আর মেকি জীবনের দৌড়ঝাঁপ। এখানকার প্রতিটি দালান, প্রতিটি ফ্ল্যাট, প্রতিটি খোপ-খোপ রুম যেন এক একটি কারাগার। জীবনের মায়ায় অন্ধ হওয়ার দোষে সবাইকে সেই কারাগার যাপনের আদেশ দেয়া হয়েছে এখানে। অথচ আমার বনে প্রতিটি গাছই জানালা, প্রতিটি পথ মুক্তির, আর বহমান বাতাসে বাজে জীবনের সুর।</p>

<p>আমার ভেতরের আমিটা বারবার বলে উঠে- “বারবার হারিয়ে যাও তোমার আরণ্যের গভীর থেকে গভীরে; ক্লান্তি ঘিরে ফেলার আগ পর্যন্ত হেঁটে বেড়াও আঁকাবাঁকা পথটি ধরে।” হয়ত কোনো একদিন সত্যিই সব ছেড়ে দিয়ে চলে যাবো। খুঁজে বের করবো আমার সেই প্রিয় বনটিকে অজানা কোন প্রান্তে। যেখানে আমার সাথে থাকবে কেবল ‘আমি’। গাছ, পাখি, পো‌ঁকা আর মাটি -সবাই মিলে ঘুচিয়ে দিবে আমার হৃদয়ের অসীম নিঃসঙ্গতা।</p>

<p>তখন আর আমি এই শহুরে মানুষ থাকবো না; আমি হবো বনের সন্তান…</p>

<p>⠀⠀⠀⠀</p>

<p>⠀⠀⠀⠀</p>

<p>⠀⠀⠀⠀</p>

<p>ছবি-সূত্রঃ <a href="https://www.reddit.com/r/landscape/comments/1mruhi0/forest_path_painting_by_me/" rel="nofollow">u/myriyevskyy</a></p>
]]></content:encoded>
      <guid>https://infosec.press/lokmanus/ekdin-tthik-haaraabo-giyye-bne</guid>
      <pubDate>Sun, 17 Aug 2025 20:30:00 +0000</pubDate>
    </item>
    <item>
      <title>তুমি তো আমাকে চেনো…</title>
      <link>https://infosec.press/lokmanus/tumi-to-aamaake-ceno</link>
      <description>&lt;![CDATA[&#xA;&#xA;প্রথম ভাগঃ প্রারম্ভিকা&#xA;জানোই তো, ঘুম হল এক ধরনের প্রতারণা। ক্লান্ত হলে বিশ্রাম নিতে তুমি চোখটা বন্ধ কর, ধীরে ধীরে তোমার শরীর শিথিল হতে শুরু করে। হৃৎস্পন্দন কমে আসে, কমে আসে শরীরের তাপমাত্রা। তুমি তখন নিজেকে নিরাপদ ভেবে নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাতে শুরু কর।&#xA;&#xA;আর ঠিক সেই সময়টাতেই তোমার বুকের উপর এমন কিছু একটা উঠে বসে, যার অস্তিত্বের কথা তোমার জানা নেই!&#xA;তবে আমি জানি, কারণ আমি তো সেটা দেখেছি।&#xA;আচ্ছা চল, তোমাকে আমার ঘটনাটা বলি, তাহলেই তুমি বুঝতে পারবে আমি কীসের কথা বলছি।&#xA;!--more--&#xA;প্রথম রাতে আমি শুধু একটা মৃদু শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম। শব্দটা মৃদু হলেও তার তীক্ষ্ম একটা অনুভূতি আমাকে ছুঁয়ে দিয়েছিল। নিঃশ্বাসের শব্দ ছিল সেটি। অন্ধকারে, ঠিক আমার বিছানার কোণ থেকে শব্দটা হয়েছিল। কেমন একটা ঠান্ডা, গভীর, লম্বা একটা টান। আমি ভেবেছিলাম মনের ধোঁকা হয়তো, এত রাতে একা ঘরে কার নিঃশ্বাসের শব্দ হবে!&#xA;&#xA;দ্বিতীয় রাতেও আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল, খুব অস্বস্তি লাগছিল। ওটা তখন আমার বুকের উপর বসে আছে। নড়তে পারছিলাম না, শ্বাসও নিতে পারছিলাম না। শুধু অনুভব করছিলাম সেই ঠান্ডা নিঃশ্বাসের মতই- ঠান্ডা, ভেজা হাতটি গলার চেপে ধরে আছে। চাপটা খুব অদ্ভুত, না শক্ত – না নরম; তবে ততটাই, যতটা থাকলে পরে তোমাকে আতঙ্ক আঁকড়ে ধরে।&#xA;&#xA;দিনের আলোতে এই কথাগুলো নিজের কাছেই হাস্যকর লাগছিল। বিশ্বাস কর, মাকে গিয়ে যে কথা গুলো বলব, আমার তো নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল ছ’বছরের বাচ্চারা রাতে স্বপ্ন দেখে ভয় পেয়ে যা করে, আমিও তেমন করছি।&#xA;&#xA;তৃতীয় রাতেও আমি সেই ঠান্ডা হাতের অনুভব পেলাম। আমি ঠিক-ঠিক গুনে ফেললাম- সেখানে মোট ছ’টা আঙ্গুল আছে। তিনটা বামে, আর তিনটা ডানে। বরফ শীতল আঙ্গুলগুলো যেন গলার চামড়া ফুড়ে মেরুদন্ড ছুঁয়ে দিতে চাইছে!&#xA;&#xA;তারপর, চতুর্থ রাত, আমি বুঝলাম ও আমাকে ডাকছে। ওকে আমি ঠিক দেখতে পাচ্ছি না, কিন্তু ওর কণ্ঠটা যেন আমার মস্তিষ্কের ভেতর ভেসে বেড়াচ্ছে। বলছে- ‘তুমি তো আমাকে চেনো….’&#xA;&#xA;পরদিন সকালে মা আমাকে ডাকতে এসে দেখলেন, আমি চুপচাপ শুয়ে আছি। ডাক্তার বলল- ‘হার্ট অ্যাটাক’। সবাই সেটা বিশ্বাসও করে নিল। অথচ, আমি সেখানেই ছিলাম, আয়নাটার সামনে। যেখান থেকে আমি সেই ছায়াটাকে ধীরে ধীরে সরে যেতে দেখছিলাম, আর তার দৃষ্টি ছিল… থাক সে কথা।&#xA;&#xA;এর ক’দিন বাদেই ওরা সবাই বাড়িটা খালি করে কোথায় যেন চলে যায়। আমি ওদের দেখেছি, ওরা ঘরের আসবাবপত্র বের করছে, সামানা গোছাচ্ছে, ভ্যানে ভরছে। কিন্তু ওরা আমাকে দেখে না। জানালা দিয়ে আমি কেবল ওদের চলে যাওয়াটুকুই দেখলাম। এরপর থেকেই আমি একা, একদম একা।&#xA;&#xA;⠀⠀⠀&#xA;&#xA;⠀⠀⠀&#xA;&#xA;দ্বিতীয় ভাগঃ বাড়ির নতুন বাসিন্দা…&#xA;শহর ছেড়ে এই গ্রামে এসেছি দিন দশেক হয়েছে। একটা প্রজেক্ট চলছে এখানে, আরও কয়েক মাস চলবে। প্রথম কয়েকদিন তো এখানকার কাজ-কর্মের কোন আগা-মাথা বুঝে পাচ্ছিলাম না। সবই চলছে নিয়ম মাফিক, আবার সবই এলোমেলো। সে সব গোছাতেই চলে গেছে এই কয়েকদিন। হেড অফিস থেকে জানাল, তারা এখানে নতুন কাউকে পোস্টিং দিবে বলে ভাবছে। তবে সেটা হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাকে একটু কাজগুলো গুছিয়ে দিতে বলল।&#xA;&#xA;শহরের বাইরে আমার তেমন করে কখনো থাকা হয়নি। এখন এই কাজের কারণে না আসলে হয়ত এভাবে এতদিনের জন্যে আসা হতো না। শহরেই জন্ম, বেড়ে উঠা, আর শহরেই জীবনটার ইতি হতো। সারাদিন ভালোই কাটে, কাজের ব্যস্ততায়, সাইট ঘুরে দেখে। কিন্তু বিকেলের পর আর সময় কাটতে চায় না। তার উপর এমন একটা জায়গায় থাকবার ব্যবস্থা হয়েছে! ছোট একটা একতলা বাড়ি, একদম গ্রামের সীমান্ত ঘেঁষে। বাড়িটা অফিসের, এখানে তারা অন্য একটা প্রজেক্টের জন্য জমি কিনার সময় খুব কম দামে পেয়ে যায়, তাই কিনে নেয়। কারও থাকার উদ্দেশ্য না হলেও এখন এই প্রজেক্টের জন্যে আমার থাকার জায়গা হয়েছে।&#xA;&#xA;ছিমছাম শান্ত পরিবেশ ঘেরা, ঝুপ করে সন্ধ্যা নামার পর নাম না জানা পোকার ডাক ছাড়া আর কিছুই শোনা যায় না। এখানকার ম্যানেজার প্রথমে তার বাসাতেই থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার কারও বাসায় এভাবে থাকাটা পছন্দ হচ্ছিল না, তাই সেটা বাতিল করেছিলাম। এরপর তিনি একপ্রকার জোড় করেই খাবারের ব্যবস্থাটা নিজের ঘাড়ে নিয়ে নিলেন। এখন টিফিন কেরিয়ারে করে সন্ধ্যার পরপর খাবার চলে আসে তার বাড়ি থেকে। তবে এক ফাঁকে তিনি আমাকে জানালেন, এই বাড়িটার ব্যাপারে কিছু আজেবাজে কথা শোনা যায়। যদিও বিশ্বাস করার মত তেমন কোনো ভিত্তি নেই। তারপরও রাতে বাড়ি থেকে বের হতে বারণ করলেন। আর কোনো সমস্যা হলে যত রাতই হোক, তাকে যেন নির্দ্বিধায় ফোন করে জানাই -সে আশ্বাস আদায় করে নিলেন।&#xA;&#xA;দিনভর দৌড়োদৌড়ির পর শান্ত পরিবেশ আর পেট পুরে খানা পেয়ে এখন ঘুমও চলে আসে দ্রুত। বড় জোড় রাত ১০টা পর্যন্ত জাগে থাকতে পারি, তারপর টুপ করে ঘুম ধরে বসে। অবশ্য আমিও যে খুব জেগে থাকতে চাই, তা না। সকাল সকাল খুব ফ্রেশ একটা ভাব চলে আসে এত লম্বা ঘুম পেয়ে। দিনের ক্লান্তিটা তখন আর তেমন গায়ে লাগে না।&#xA;&#xA;এগারো তম রাতে হঠাৎ করেই ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। কেমন একটা অস্বস্তি লাগছিল, ঠিক বোঝানোর মত না। কেমন যেন একটা অস্বাভাবিক নীরবতা নেমে এসেছে। জানালার ফাঁকা দিয়ে ফ্যাকাশে চাঁদের আলো এসে বিছানার একপাশে থেমে আছে। মনে হচ্ছে যেন সময়টাও আটকে গেছে। অস্বস্তিটা আমাকে এমনভাবে ঘিরে ধরেছে যে, উঠে বসে টেবিল থেকে মোবাইল বা ঘড়িটা পর্যন্ত নিতে ইচ্ছে হলো না। বেশ অনেকটা সময় পর হঠাৎ করেই সব স্বাভাবিক হয়ে গেল। যেন কেউ রিমোট থেকে প্লে বাটনে চাপ দেয়ার সাথে সাথেই সব আগের মতই চলতে শুরু করেছে। অস্বস্তিটাও কেটে গেল প্রায় সাথে সাথেই। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি আবার ঘুমের সাগরে ডুবে গেলাম।&#xA;&#xA;পরদিন আর এটা নিয়ে তেমন কিছুই মনে থাকলো না। সাইট ঘুরে কাজ দেখতে দেখতে দিন কেটে গেল।&#xA;&#xA;সমস্যাটা হলো আবার রাতে। গতদিনের মতই ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো। ঠিক ভেঙ্গে গেল কিনা সেটাও নিশ্চিত করে বলতে পারছিলাম না। যেন ঘুমের গভীর কোন স্তরে ডুবে আছি, কোন নড়াচড়া কিংবা সাড়াশব্দ কিচ্ছু নেই। কেবল একটা চাপা অস্বস্তি।&#xA;&#xA;হঠাৎ বুকের উপরে ভারী আর ঠান্ডা একটা চাপ অনুভব করলাম। কারও উপস্থিতি… না, কারও বসে থাকা। শরীর শক্ত হয়ে গেছে, আঙুল পর্যন্ত নড়ছে না। চিৎকার করতে গেলেও শব্দ বের হচ্ছিল না। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে।&#xA;&#xA;তারপর ঠান্ডা, ভেজা একজোড়া হাত গলার দুই পাশে চেপে ধরলো। এমনভাবে চাপ দিচ্ছিল- যেন নিখুঁতভাবে আমার শ্বাস বন্ধ করতে চাইছে। চোখের সামনে সব ঝাপসা হয়ে আসছে, মাথাটা ভোঁ ভোঁ করছে। আর কানের ভেতর একটা ফিসফিসানি-&#xA;“তুমি তো আমাকে চেনো…”&#xA;&#xA;আজকের পূর্বে আমার নিজেকে কখনো ভীতু মনে না হলেও, আজ আমার বুকের ভেতর ভয় ভয় জমে বরফ হয়ে গেল। হঠাৎ মনে হলো নিঃশ্বাসও নেওয়ার দরকার পড়ছে না। গলার চাপ কমেনি, বরং বেড়েছে বলা যায়। অথচ শ্বাস টানার কোন আকুতি আর ফুসফুস করছে না। হয়ত অক্সিজেনের অভাবে উল্টোপাল্টা ভাবছি। কিন্তু এটাও বুঝতে পারছি যে মস্তিষ্ক পরিষ্কার চিন্তা করতে পারছে। আর প্রশ্নটা নিজে থেকেই এলো- তবে কি আমি মারা গিয়েছি? নাকি এটা পুরোপুরি কল্পনা? অথবা এই অনুভূতিটাই মৃত্যুর পরের অংশ?&#xA;&#xA;পরের মুহূর্তেই উঠে বসলাম। বুক ধড়ফড় করছে, কিন্তু ঘরের পরিবেশ একদম স্বাভাবিক। জোরে জোরে ফুসফুস ভরে শ্বাস নিচ্ছি, বা হাঁপাচ্ছি। বিছানাটা এলোমেলো, চাদর গুটিয়ে গেছে।&#xA;&#xA;নামলাম বিছানা থেকে, হেঁটে বাথরুমে গিয়ে ঢুকলাম। একটু আগে যে আতঙ্ক ভর করেছিল, তার ছিটে-ফোটাও লাগছে না এখন। উলটো নিজেকে যেন আরও হালকা লাগছে। বেসিনের ট্যাপ ছেড়ে চোখে-মুখে ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে দিলাম। মাথা কিছুটা পরিষ্কার হলো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের বোকামিতে হেসে ফেলতে গেলাম,কিন্তু হাসি মিলিয়ে গেল পরের সেকেন্ডেই।&#xA;&#xA;গলার দুই পাশে তিনটা করে সমান লালচে দাগ। যেন কারও আঙুলের চাপের ছাপ। আমি হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখলাম, হালকা গরম, কিন্তু কোনো ব্যথা নেই। আমার আতঙ্কিত হওয়ার কথা, কিন্তু তেমন কোন অনুভূতি হচ্ছে না। যেন এমনটা হবে আমি জানতাম!&#xA;&#xA;এরপর আর ভালো ঘুম হলো না। বারবার কেবল ঘুরে ফিরে ঐ ফিস্‌ফিস শব্দটা মাথায় চলে আসছিল। “তুমি তো আমাকে চেনো…”&#xA;&#xA;পরদিন সকালে অফিসে গিয়েই এখানকার ম্যানেজার সাহেবকে জানালাম জরুরি কাজে বাড়ি যাচ্ছি। হাতের কাজগুলো তাকে বুঝিয়ে দিয়েই গাড়িতে উঠলাম। হেড অফিসে কেবল অসুস্থতার ছুটির জন্য একটা মেইল পাঠিয়ে রাখলাম।&#xA;&#xA;আট ঘণ্টার জার্নি দিয়ে ফিরলাম বাসায়। আমার কেবল মনে হচ্ছিল আমাকে যে করেই হোক ঐ জায়গাটা ছেড়ে আসতে হবে। তাই আর সামনে-পেছনে কোন কিছুই চিন্তা না করে সোজা বাসায় এসেছি। অবশ্য বাসায় এসে কাউকে কিছু বলে ভরকে দিতে ইচ্ছা হল না। ছুটি নিয়েছি, জানালাম কেবল। ওরা ভাবল, এভাবে হঠাৎ করেই শহর ছেড়ে গ্রামে গিয়ে থাকা, আর লম্বা জার্নির কারণে আমাকে এমন ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে।&#xA;&#xA;ফ্রেশ হয়ে কোনোরকম রাতের খাবার শেষ করেই আমার রুমে গিয়ে ঢুকলাম। বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই ঘুম ঘুম ভাব চলে আসল। অনিচ্ছাতেও গভীর ঘুমে নিপতিত হতে থাকলাম।&#xA;&#xA;⠀⠀⠀&#xA;&#xA;⠀⠀⠀&#xA;&#xA;তৃতীয় ভাগঃ অবশেষ…&#xA;একটা ঘোরের মন লাগছে। মনে হচ্ছে জেগে আছি, আবার মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। বিছানায় উঠে বসতেই আলমারির আয়নার দিকে চোখ পড়ল। পেছনে বাথরুমের দরজা আধখোলা, আর তার ফাঁক দিয়ে মনে হলো কেউ দাঁড়িয়ে আছে- অস্পষ্ট, ছায়ার মতো।&#xA;&#xA;আমি চোখ মুছলাম, আবার তাকালাম- কই? কেউ তো নেই!&#xA;&#xA;হঠাৎ বাতাস থেমে গেল।&#xA;না, আসলে বাতাস নয়, নিশ্বাস নেয়ার আকুতি; থেমে গেলো।&#xA;&#xA;আয়নার ভেতরে আমার পেছনে অন্ধকার জমতে শুরু করলো। প্রথমে মনে হলো ছায়া, কিন্তু তা ধীরে ধীরে আকার নিচ্ছে- লম্বা, কঙ্কালসার হাত… প্রতিটি হাতে তিনটি লম্বা আঙুল।&#xA;&#xA;আমার কাঁধের উপর দিয়ে সেই হাতের ছায়া এগিয়ে এলো। আয়নায় হাত দেখা গেলেও আমার গায়ে কোন কিছুর ছোঁয়া অনুভব করলাম না। আমি স্থির হয়ে রইলাম, চোখের পাপড়িও ফেলতে পারছি না।&#xA;&#xA;তারপর সেই ছায়ার মাথাটা ঝুঁকে এল আমার ঠিক কানের পাশে। কোনো ঠোঁট নড়ছে না, কিন্তু এক বরফশীতল ফিসফিসানি মাথার ভেতর এক স্বরে বলেই চলেছে-&#xA;“তুমি তো আমাকে চেনো…”&#xA;&#xA;আমি তখন আয়নার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম প্রতিফলনে দাঁড়িয়ে থাকা আমিটা আসলে আমি নই।&#xA;প্রতিফলনের চোখ গাঢ় কালো হয়ে গেছে, ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি, আর গলার দাগগুলো রক্তিম লাল হয়ে জ্বলজ্বল করছে। ওটা আমাকে দেখছে… কিন্তু আমি ওটাকে… কি জানি!&#xA;&#xA;বাথরুমের দরজা আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে গেল। অন্ধকার পুরো ঘরটাকে গিলে নিল।&#xA;&#xA;⠀⠀⠀&#xA;&#xA;⠀⠀⠀&#xA;&#xA;]]&gt;</description>
      <content:encoded><![CDATA[<p><img src="https://i.ibb.co.com/DPN5Xwfc/PI-2025-08-16-tumi-to-amake-chino.jpg" alt=""></p>

<h2 id="প-রথম-ভ-গ-প-র-রম-ভ-ক">প্রথম ভাগঃ প্রারম্ভিকা</h2>

<p>জানোই তো, ঘুম হল এক ধরনের প্রতারণা। ক্লান্ত হলে বিশ্রাম নিতে তুমি চোখটা বন্ধ কর, ধীরে ধীরে তোমার শরীর শিথিল হতে শুরু করে। হৃৎস্পন্দন কমে আসে, কমে আসে শরীরের তাপমাত্রা। তুমি তখন নিজেকে নিরাপদ ভেবে নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাতে শুরু কর।</p>

<p>আর ঠিক সেই সময়টাতেই তোমার বুকের উপর এমন কিছু একটা উঠে বসে, যার অস্তিত্বের কথা তোমার জানা নেই!
তবে আমি জানি, কারণ আমি তো সেটা দেখেছি।
আচ্ছা চল, তোমাকে আমার ঘটনাটা বলি, তাহলেই তুমি বুঝতে পারবে আমি কীসের কথা বলছি।

প্রথম রাতে আমি শুধু একটা মৃদু শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম। শব্দটা মৃদু হলেও তার তীক্ষ্ম একটা অনুভূতি আমাকে ছুঁয়ে দিয়েছিল। নিঃশ্বাসের শব্দ ছিল সেটি। অন্ধকারে, ঠিক আমার বিছানার কোণ থেকে শব্দটা হয়েছিল। কেমন একটা ঠান্ডা, গভীর, লম্বা একটা টান। আমি ভেবেছিলাম মনের ধোঁকা হয়তো, এত রাতে একা ঘরে কার নিঃশ্বাসের শব্দ হবে!</p>

<p>দ্বিতীয় রাতেও আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল, খুব অস্বস্তি লাগছিল। ওটা তখন আমার বুকের উপর বসে আছে। নড়তে পারছিলাম না, শ্বাসও নিতে পারছিলাম না। শুধু অনুভব করছিলাম সেই ঠান্ডা নিঃশ্বাসের মতই- ঠান্ডা, ভেজা হাতটি গলার চেপে ধরে আছে। চাপটা খুব অদ্ভুত, না শক্ত – না নরম; তবে ততটাই, যতটা থাকলে পরে তোমাকে আতঙ্ক আঁকড়ে ধরে।</p>

<p>দিনের আলোতে এই কথাগুলো নিজের কাছেই হাস্যকর লাগছিল। বিশ্বাস কর, মাকে গিয়ে যে কথা গুলো বলব, আমার তো নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল ছ’বছরের বাচ্চারা রাতে স্বপ্ন দেখে ভয় পেয়ে যা করে, আমিও তেমন করছি।</p>

<p>তৃতীয় রাতেও আমি সেই ঠান্ডা হাতের অনুভব পেলাম। আমি ঠিক-ঠিক গুনে ফেললাম- সেখানে মোট ছ’টা আঙ্গুল আছে। তিনটা বামে, আর তিনটা ডানে। বরফ শীতল আঙ্গুলগুলো যেন গলার চামড়া ফুড়ে মেরুদন্ড ছুঁয়ে দিতে চাইছে!</p>

<p>তারপর, চতুর্থ রাত, আমি বুঝলাম ও আমাকে ডাকছে। ওকে আমি ঠিক দেখতে পাচ্ছি না, কিন্তু ওর কণ্ঠটা যেন আমার মস্তিষ্কের ভেতর ভেসে বেড়াচ্ছে। বলছে- ‘তুমি তো আমাকে চেনো….’</p>

<p>পরদিন সকালে মা আমাকে ডাকতে এসে দেখলেন, আমি চুপচাপ শুয়ে আছি। ডাক্তার বলল- ‘হার্ট অ্যাটাক’। সবাই সেটা বিশ্বাসও করে নিল। অথচ, আমি সেখানেই ছিলাম, আয়নাটার সামনে। যেখান থেকে আমি সেই ছায়াটাকে ধীরে ধীরে সরে যেতে দেখছিলাম, আর তার দৃষ্টি ছিল… থাক সে কথা।</p>

<p>এর ক’দিন বাদেই ওরা সবাই বাড়িটা খালি করে কোথায় যেন চলে যায়। আমি ওদের দেখেছি, ওরা ঘরের আসবাবপত্র বের করছে, সামানা গোছাচ্ছে, ভ্যানে ভরছে। কিন্তু ওরা আমাকে দেখে না। জানালা দিয়ে আমি কেবল ওদের চলে যাওয়াটুকুই দেখলাম। এরপর থেকেই আমি একা, একদম একা।</p>

<p>⠀⠀⠀</p>

<p>⠀⠀⠀</p>

<h2 id="দ-ব-ত-য়-ভ-গ-ব-ড়-র-নত-ন-ব-স-ন-দ">দ্বিতীয় ভাগঃ বাড়ির নতুন বাসিন্দা…</h2>

<p>শহর ছেড়ে এই গ্রামে এসেছি দিন দশেক হয়েছে। একটা প্রজেক্ট চলছে এখানে, আরও কয়েক মাস চলবে। প্রথম কয়েকদিন তো এখানকার কাজ-কর্মের কোন আগা-মাথা বুঝে পাচ্ছিলাম না। সবই চলছে নিয়ম মাফিক, আবার সবই এলোমেলো। সে সব গোছাতেই চলে গেছে এই কয়েকদিন। হেড অফিস থেকে জানাল, তারা এখানে নতুন কাউকে পোস্টিং দিবে বলে ভাবছে। তবে সেটা হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাকে একটু কাজগুলো গুছিয়ে দিতে বলল।</p>

<p>শহরের বাইরে আমার তেমন করে কখনো থাকা হয়নি। এখন এই কাজের কারণে না আসলে হয়ত এভাবে এতদিনের জন্যে আসা হতো না। শহরেই জন্ম, বেড়ে উঠা, আর শহরেই জীবনটার ইতি হতো। সারাদিন ভালোই কাটে, কাজের ব্যস্ততায়, সাইট ঘুরে দেখে। কিন্তু বিকেলের পর আর সময় কাটতে চায় না। তার উপর এমন একটা জায়গায় থাকবার ব্যবস্থা হয়েছে! ছোট একটা একতলা বাড়ি, একদম গ্রামের সীমান্ত ঘেঁষে। বাড়িটা অফিসের, এখানে তারা অন্য একটা প্রজেক্টের জন্য জমি কিনার সময় খুব কম দামে পেয়ে যায়, তাই কিনে নেয়। কারও থাকার উদ্দেশ্য না হলেও এখন এই প্রজেক্টের জন্যে আমার থাকার জায়গা হয়েছে।</p>

<p>ছিমছাম শান্ত পরিবেশ ঘেরা, ঝুপ করে সন্ধ্যা নামার পর নাম না জানা পোকার ডাক ছাড়া আর কিছুই শোনা যায় না। এখানকার ম্যানেজার প্রথমে তার বাসাতেই থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার কারও বাসায় এভাবে থাকাটা পছন্দ হচ্ছিল না, তাই সেটা বাতিল করেছিলাম। এরপর তিনি একপ্রকার জোড় করেই খাবারের ব্যবস্থাটা নিজের ঘাড়ে নিয়ে নিলেন। এখন টিফিন কেরিয়ারে করে সন্ধ্যার পরপর খাবার চলে আসে তার বাড়ি থেকে। তবে এক ফাঁকে তিনি আমাকে জানালেন, এই বাড়িটার ব্যাপারে কিছু আজেবাজে কথা শোনা যায়। যদিও বিশ্বাস করার মত তেমন কোনো ভিত্তি নেই। তারপরও রাতে বাড়ি থেকে বের হতে বারণ করলেন। আর কোনো সমস্যা হলে যত রাতই হোক, তাকে যেন নির্দ্বিধায় ফোন করে জানাই -সে আশ্বাস আদায় করে নিলেন।</p>

<p>দিনভর দৌড়োদৌড়ির পর শান্ত পরিবেশ আর পেট পুরে খানা পেয়ে এখন ঘুমও চলে আসে দ্রুত। বড় জোড় রাত ১০টা পর্যন্ত জাগে থাকতে পারি, তারপর টুপ করে ঘুম ধরে বসে। অবশ্য আমিও যে খুব জেগে থাকতে চাই, তা না। সকাল সকাল খুব ফ্রেশ একটা ভাব চলে আসে এত লম্বা ঘুম পেয়ে। দিনের ক্লান্তিটা তখন আর তেমন গায়ে লাগে না।</p>

<p>এগারো তম রাতে হঠাৎ করেই ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। কেমন একটা অস্বস্তি লাগছিল, ঠিক বোঝানোর মত না। কেমন যেন একটা অস্বাভাবিক নীরবতা নেমে এসেছে। জানালার ফাঁকা দিয়ে ফ্যাকাশে চাঁদের আলো এসে বিছানার একপাশে থেমে আছে। মনে হচ্ছে যেন সময়টাও আটকে গেছে। অস্বস্তিটা আমাকে এমনভাবে ঘিরে ধরেছে যে, উঠে বসে টেবিল থেকে মোবাইল বা ঘড়িটা পর্যন্ত নিতে ইচ্ছে হলো না। বেশ অনেকটা সময় পর হঠাৎ করেই সব স্বাভাবিক হয়ে গেল। যেন কেউ রিমোট থেকে প্লে বাটনে চাপ দেয়ার সাথে সাথেই সব আগের মতই চলতে শুরু করেছে। অস্বস্তিটাও কেটে গেল প্রায় সাথে সাথেই। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি আবার ঘুমের সাগরে ডুবে গেলাম।</p>

<p>পরদিন আর এটা নিয়ে তেমন কিছুই মনে থাকলো না। সাইট ঘুরে কাজ দেখতে দেখতে দিন কেটে গেল।</p>

<p>সমস্যাটা হলো আবার রাতে। গতদিনের মতই ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো। ঠিক ভেঙ্গে গেল কিনা সেটাও নিশ্চিত করে বলতে পারছিলাম না। যেন ঘুমের গভীর কোন স্তরে ডুবে আছি, কোন নড়াচড়া কিংবা সাড়াশব্দ কিচ্ছু নেই। কেবল একটা চাপা অস্বস্তি।</p>

<p>হঠাৎ বুকের উপরে ভারী আর ঠান্ডা একটা চাপ অনুভব করলাম। কারও উপস্থিতি… না, কারও বসে থাকা। শরীর শক্ত হয়ে গেছে, আঙুল পর্যন্ত নড়ছে না। চিৎকার করতে গেলেও শব্দ বের হচ্ছিল না। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে।</p>

<p>তারপর ঠান্ডা, ভেজা একজোড়া হাত গলার দুই পাশে চেপে ধরলো। এমনভাবে চাপ দিচ্ছিল- যেন নিখুঁতভাবে আমার শ্বাস বন্ধ করতে চাইছে। চোখের সামনে সব ঝাপসা হয়ে আসছে, মাথাটা ভোঁ ভোঁ করছে। আর কানের ভেতর একটা ফিসফিসানি-
“তুমি তো আমাকে চেনো…”</p>

<p>আজকের পূর্বে আমার নিজেকে কখনো ভীতু মনে না হলেও, আজ আমার বুকের ভেতর ভয় ভয় জমে বরফ হয়ে গেল। হঠাৎ মনে হলো নিঃশ্বাসও নেওয়ার দরকার পড়ছে না। গলার চাপ কমেনি, বরং বেড়েছে বলা যায়। অথচ শ্বাস টানার কোন আকুতি আর ফুসফুস করছে না। হয়ত অক্সিজেনের অভাবে উল্টোপাল্টা ভাবছি। কিন্তু এটাও বুঝতে পারছি যে মস্তিষ্ক পরিষ্কার চিন্তা করতে পারছে। আর প্রশ্নটা নিজে থেকেই এলো- তবে কি আমি মারা গিয়েছি? নাকি এটা পুরোপুরি কল্পনা? অথবা এই অনুভূতিটাই মৃত্যুর পরের অংশ?</p>

<p>পরের মুহূর্তেই উঠে বসলাম। বুক ধড়ফড় করছে, কিন্তু ঘরের পরিবেশ একদম স্বাভাবিক। জোরে জোরে ফুসফুস ভরে শ্বাস নিচ্ছি, বা হাঁপাচ্ছি। বিছানাটা এলোমেলো, চাদর গুটিয়ে গেছে।</p>

<p>নামলাম বিছানা থেকে, হেঁটে বাথরুমে গিয়ে ঢুকলাম। একটু আগে যে আতঙ্ক ভর করেছিল, তার ছিটে-ফোটাও লাগছে না এখন। উলটো নিজেকে যেন আরও হালকা লাগছে। বেসিনের ট্যাপ ছেড়ে চোখে-মুখে ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে দিলাম। মাথা কিছুটা পরিষ্কার হলো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের বোকামিতে হেসে ফেলতে গেলাম,কিন্তু হাসি মিলিয়ে গেল পরের সেকেন্ডেই।</p>

<p>গলার দুই পাশে তিনটা করে সমান লালচে দাগ। যেন কারও আঙুলের চাপের ছাপ। আমি হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখলাম, হালকা গরম, কিন্তু কোনো ব্যথা নেই। আমার আতঙ্কিত হওয়ার কথা, কিন্তু তেমন কোন অনুভূতি হচ্ছে না। যেন এমনটা হবে আমি জানতাম!</p>

<p>এরপর আর ভালো ঘুম হলো না। বারবার কেবল ঘুরে ফিরে ঐ ফিস্‌ফিস শব্দটা মাথায় চলে আসছিল। “তুমি তো আমাকে চেনো…”</p>

<p>পরদিন সকালে অফিসে গিয়েই এখানকার ম্যানেজার সাহেবকে জানালাম জরুরি কাজে বাড়ি যাচ্ছি। হাতের কাজগুলো তাকে বুঝিয়ে দিয়েই গাড়িতে উঠলাম। হেড অফিসে কেবল অসুস্থতার ছুটির জন্য একটা মেইল পাঠিয়ে রাখলাম।</p>

<p>আট ঘণ্টার জার্নি দিয়ে ফিরলাম বাসায়। আমার কেবল মনে হচ্ছিল আমাকে যে করেই হোক ঐ জায়গাটা ছেড়ে আসতে হবে। তাই আর সামনে-পেছনে কোন কিছুই চিন্তা না করে সোজা বাসায় এসেছি। অবশ্য বাসায় এসে কাউকে কিছু বলে ভরকে দিতে ইচ্ছা হল না। ছুটি নিয়েছি, জানালাম কেবল। ওরা ভাবল, এভাবে হঠাৎ করেই শহর ছেড়ে গ্রামে গিয়ে থাকা, আর লম্বা জার্নির কারণে আমাকে এমন ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে।</p>

<p>ফ্রেশ হয়ে কোনোরকম রাতের খাবার শেষ করেই আমার রুমে গিয়ে ঢুকলাম। বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই ঘুম ঘুম ভাব চলে আসল। অনিচ্ছাতেও গভীর ঘুমে নিপতিত হতে থাকলাম।</p>

<p>⠀⠀⠀</p>

<p>⠀⠀⠀</p>

<h2 id="ত-ত-য-ভ-গ-অবশ-ষ">তৃতীয় ভাগঃ অবশেষ…</h2>

<p>একটা ঘোরের মন লাগছে। মনে হচ্ছে জেগে আছি, আবার মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। বিছানায় উঠে বসতেই আলমারির আয়নার দিকে চোখ পড়ল। পেছনে বাথরুমের দরজা আধখোলা, আর তার ফাঁক দিয়ে মনে হলো কেউ দাঁড়িয়ে আছে- অস্পষ্ট, ছায়ার মতো।</p>

<p>আমি চোখ মুছলাম, আবার তাকালাম- কই? কেউ তো নেই!</p>

<p>হঠাৎ বাতাস থেমে গেল।
না, আসলে বাতাস নয়, নিশ্বাস নেয়ার আকুতি; থেমে গেলো।</p>

<p>আয়নার ভেতরে আমার পেছনে অন্ধকার জমতে শুরু করলো। প্রথমে মনে হলো ছায়া, কিন্তু তা ধীরে ধীরে আকার নিচ্ছে- লম্বা, কঙ্কালসার হাত… প্রতিটি হাতে তিনটি লম্বা আঙুল।</p>

<p>আমার কাঁধের উপর দিয়ে সেই হাতের ছায়া এগিয়ে এলো। আয়নায় হাত দেখা গেলেও আমার গায়ে কোন কিছুর ছোঁয়া অনুভব করলাম না। আমি স্থির হয়ে রইলাম, চোখের পাপড়িও ফেলতে পারছি না।</p>

<p>তারপর সেই ছায়ার মাথাটা ঝুঁকে এল আমার ঠিক কানের পাশে। কোনো ঠোঁট নড়ছে না, কিন্তু এক বরফশীতল ফিসফিসানি মাথার ভেতর এক স্বরে বলেই চলেছে-
“তুমি তো আমাকে চেনো…”</p>

<p>আমি তখন আয়নার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম প্রতিফলনে দাঁড়িয়ে থাকা আমিটা আসলে আমি নই।
প্রতিফলনের চোখ গাঢ় কালো হয়ে গেছে, ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি, আর গলার দাগগুলো রক্তিম লাল হয়ে জ্বলজ্বল করছে। ওটা আমাকে দেখছে… কিন্তু আমি ওটাকে… কি জানি!</p>

<p>বাথরুমের দরজা আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে গেল। অন্ধকার পুরো ঘরটাকে গিলে নিল।</p>

<p>⠀⠀⠀</p>

<p>⠀⠀⠀</p>
]]></content:encoded>
      <guid>https://infosec.press/lokmanus/tumi-to-aamaake-ceno</guid>
      <pubDate>Sat, 16 Aug 2025 17:31:34 +0000</pubDate>
    </item>
    <item>
      <title>বিকেলের রঙে হারানো দিনগুলো...</title>
      <link>https://infosec.press/lokmanus/bikeler-rnge-haaraano-dingulo</link>
      <description>&lt;![CDATA[&#xA;&#xA;মনিটরের পর্দায় এই ছবিটা দেখে মনে হল যেন কেউ আমার ভেতরের স্মৃতির দরজাটা আস্তে করে খুলে দিচ্ছে। চোখের সামনে ভেসে উঠলো সেই শৈশবের বিকেলগুলো- যখন গরমের দুপুর গুলিতে ভাতঘুম দিয়ে বিকেলের আগে আগে উঠতাম। তারপর বিকেল নামলে পরে যেতাম মাঠের দিকে। চারপাশে শুধু বিস্তীর্ণ সবুজ, দূর-সুদূরে অল্প কয়টিা বাড়ি আর ওপরে অনন্ত নীল আকাশ। মনে হতো, যদি কোনোভাবে ওই আকাশে উঠার সিঁড়িটা খুঁজে পেতাম! ভাবতাম নিশ্চই আকাশের একটা গোপন রাস্তা আছে, যা কেবল আমার চোখে ধরা পড়ে না!&#xA;!--more--&#xA;প্রতিদিন বিকেলে ঝাঁকে-ঝাক পাখি উড়ে যেত দক্ষিণ দিগন্তে। তাদের দেখেই মনে হতো, তারা নিশ্চয়ই কোনো অদ্ভুত জগতে যাচ্ছে- যেখানে মানুষের অনুমতি নেই, শুধু ডানাওয়ালাদের রাজ্য সেখানে। আমার কৌতূহল ছিল আকাশের চেয়েও বড়; ভাবতাম, একদিন আমিও এমন দুটো ডানার মালিক হবো, উড়ে যাবো তাদের সঙ্গে, তাদের সেই গোপন রাজ্যে!&#xA;&#xA;তবে বিকেলের প্রতি আমার ছোট্ট একটা অভিমানও ছিল। কেন হঠাৎ করেই ঝুপ করে সন্ধ্যা নেমে আসে? এত সুন্দর আলো, এত রঙ, এত বাতাস, বাতাসের শন‍্‍-শন‍্‍ -সবকিছু এত তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায় কেন? কি হতো সন্ধ্যাটা কম হলেও বিকেলটা আরও একটু বড় হলে? কি হতো এই মুক্ত বাতাসে আরও একটু সময় পেলে? মনে হতো, নিষ্ঠুর প্রকৃতি ইচ্ছে করেই আমার বিকেলের সময়টা কমিয়ে দিচ্ছে।&#xA;&#xA;কিন্তু কবে যেন সেই বিকেলগুলো হারিয়ে গেলো, বুঝতেই পারিনি। পড়াশোনা, ব্যস্ততা, জীবনের দৌড়ঝাঁপ- সব মিলে বিস্তীর্ণ মাঠগুলোও ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে গেলো কালের গহ্বরে। যে মাঠে দাঁড়িয়ে আকাশের রঙ বদলানো দেখতাম, সেখানে এখন শুধু ইট-কংক্রিটের দেয়াল। এলোমেলো মুক্ত বাতাসের তোড় এখন আর শন‍্‍-শন‍্‍ গান শোনায় না। আকাশ আছে, কিন্তু তার ম্লান রঙ এখন আর হৃদয় রাঙ্গায় না; আলো আছে, কিন্তু তাতে সেই শৈশবের যাদু এখন অনুপস্থিত।&#xA;&#xA;এই নগরে এখন বিকেল মানেই মানুষের ক্লান্ত মুখ, গাড়ির অসহনীয় শব্দ, ধোঁয়া আর ছুটে চলা মানুষের ভিড়, কোলাহল, আর ময়লার গন্ধ। পাখির ঝাঁকের দেখা এখন আর মেলে না, দেখা যায় কেবল কাটা তারের মাঝে আটকে থাকা কিছু ঘুড়ি, আর দূর আকাশে উড়তে থাকা চিল অথবা কোন বাড়ির উঁচু ছাদের কার্নিশে ক্লান্ত কাক। আমার ভেতরে এই বিকেল গুলিতে এক অদ্ভুত শূন্যতা কাজ করে- মনে হয়, আমি শুধু আকাশটাই হারাইনি; বরং নিজেকেও হারিয়েছি টুকরো টুকরো সময়ের সাথে।&#xA;&#xA;তবুও, মাঝে মাঝে মনে অদ্ভুত এক ইচ্ছা জাগে। যদি একদিন কৈশরের সেই দিনগুলোতে ফিরে যাওয়া যেত! আবার যদি সেই বিস্তৃত মাঠে দাঁড়িয়ে রঙ ভরা আকাশের নিচে পাখির অদৃশ্য সেই রাজ্যের পানে গন্তব্য নিয়ে গল্প বানাতে পারতাম। যদি পারতাম শন‍্‍-শন‍্‍ শব্দের তোড়ে বাতাসে হাত মেলে খোলা মাঠে এলোমেলো ছুটতে। যদি আবার জমা রাখতে পারতাম প্রকৃতির কাছে আমার ছোট ছোট সেই অভিমান আর অভিযোগ গুলো!&#xA;&#xA;বিকেলের রঙ গুলো হয়ত আজও একই আছে, কিন্তু আমি জানি- শহরের আকাশে সেগুলোর দেখা পাওয়া আর সম্ভব নয়। শুধু মনেই রয়ে গেছে মুক্ত মাঠের এক কোনায় দাঁড়িয়ে বিস্ময়ভরা দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে দেখা একখণ্ড রঙিন আকাশ। যেখানে আমি এখনো দাঁড়িয়ে আছি- এক জেদি স্বপ্নবাজ শিশু হয়ে, ডানা গজানোর অপেক্ষায়।&#xA;&#xA;ছবি-সূত্রঃ r/painting]]&gt;</description>
      <content:encoded><![CDATA[<p><img src="https://i.ibb.co.com/6cksvszP/evening-field-with-sky-and-bird.jpg" alt=""></p>

<p>মনিটরের পর্দায় এই ছবিটা দেখে মনে হল যেন কেউ আমার ভেতরের স্মৃতির দরজাটা আস্তে করে খুলে দিচ্ছে। চোখের সামনে ভেসে উঠলো সেই শৈশবের বিকেলগুলো- যখন গরমের দুপুর গুলিতে ভাতঘুম দিয়ে বিকেলের আগে আগে উঠতাম। তারপর বিকেল নামলে পরে যেতাম মাঠের দিকে। চারপাশে শুধু বিস্তীর্ণ সবুজ, দূর-সুদূরে অল্প কয়টিা বাড়ি আর ওপরে অনন্ত নীল আকাশ। মনে হতো, যদি কোনোভাবে ওই আকাশে উঠার সিঁড়িটা খুঁজে পেতাম! ভাবতাম নিশ্চই আকাশের একটা গোপন রাস্তা আছে, যা কেবল আমার চোখে ধরা পড়ে না!

প্রতিদিন বিকেলে ঝাঁকে-ঝাক পাখি উড়ে যেত দক্ষিণ দিগন্তে। তাদের দেখেই মনে হতো, তারা নিশ্চয়ই কোনো অদ্ভুত জগতে যাচ্ছে- যেখানে মানুষের অনুমতি নেই, শুধু ডানাওয়ালাদের রাজ্য সেখানে। আমার কৌতূহল ছিল আকাশের চেয়েও বড়; ভাবতাম, একদিন আমিও এমন দুটো ডানার মালিক হবো, উড়ে যাবো তাদের সঙ্গে, তাদের সেই গোপন রাজ্যে!</p>

<p>তবে বিকেলের প্রতি আমার ছোট্ট একটা অভিমানও ছিল। কেন হঠাৎ করেই ঝুপ করে সন্ধ্যা নেমে আসে? এত সুন্দর আলো, এত রঙ, এত বাতাস, বাতাসের শন‍্‍-শন‍্‍ -সবকিছু এত তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায় কেন? কি হতো সন্ধ্যাটা কম হলেও বিকেলটা আরও একটু বড় হলে? কি হতো এই মুক্ত বাতাসে আরও একটু সময় পেলে? মনে হতো, নিষ্ঠুর প্রকৃতি ইচ্ছে করেই আমার বিকেলের সময়টা কমিয়ে দিচ্ছে।</p>

<p>কিন্তু কবে যেন সেই বিকেলগুলো হারিয়ে গেলো, বুঝতেই পারিনি। পড়াশোনা, ব্যস্ততা, জীবনের দৌড়ঝাঁপ- সব মিলে বিস্তীর্ণ মাঠগুলোও ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে গেলো কালের গহ্বরে। যে মাঠে দাঁড়িয়ে আকাশের রঙ বদলানো দেখতাম, সেখানে এখন শুধু ইট-কংক্রিটের দেয়াল। এলোমেলো মুক্ত বাতাসের তোড় এখন আর শন‍্‍-শন‍্‍ গান শোনায় না। আকাশ আছে, কিন্তু তার ম্লান রঙ এখন আর হৃদয় রাঙ্গায় না; আলো আছে, কিন্তু তাতে সেই শৈশবের যাদু এখন অনুপস্থিত।</p>

<p>এই নগরে এখন বিকেল মানেই মানুষের ক্লান্ত মুখ, গাড়ির অসহনীয় শব্দ, ধোঁয়া আর ছুটে চলা মানুষের ভিড়, কোলাহল, আর ময়লার গন্ধ। পাখির ঝাঁকের দেখা এখন আর মেলে না, দেখা যায় কেবল কাটা তারের মাঝে আটকে থাকা কিছু ঘুড়ি, আর দূর আকাশে উড়তে থাকা চিল অথবা কোন বাড়ির উঁচু ছাদের কার্নিশে ক্লান্ত কাক। আমার ভেতরে এই বিকেল গুলিতে এক অদ্ভুত শূন্যতা কাজ করে- মনে হয়, আমি শুধু আকাশটাই হারাইনি; বরং নিজেকেও হারিয়েছি টুকরো টুকরো সময়ের সাথে।</p>

<p>তবুও, মাঝে মাঝে মনে অদ্ভুত এক ইচ্ছা জাগে। যদি একদিন কৈশরের সেই দিনগুলোতে ফিরে যাওয়া যেত! আবার যদি সেই বিস্তৃত মাঠে দাঁড়িয়ে রঙ ভরা আকাশের নিচে পাখির অদৃশ্য সেই রাজ্যের পানে গন্তব্য নিয়ে গল্প বানাতে পারতাম। যদি পারতাম শন‍্‍-শন‍্‍ শব্দের তোড়ে বাতাসে হাত মেলে খোলা মাঠে এলোমেলো ছুটতে। যদি আবার জমা রাখতে পারতাম প্রকৃতির কাছে আমার ছোট ছোট সেই অভিমান আর অভিযোগ গুলো!</p>

<p>বিকেলের রঙ গুলো হয়ত আজও একই আছে, কিন্তু আমি জানি- শহরের আকাশে সেগুলোর দেখা পাওয়া আর সম্ভব নয়। শুধু মনেই রয়ে গেছে মুক্ত মাঠের এক কোনায় দাঁড়িয়ে বিস্ময়ভরা দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে দেখা একখণ্ড রঙিন আকাশ। যেখানে আমি এখনো দাঁড়িয়ে আছি- এক জেদি স্বপ্নবাজ শিশু হয়ে, ডানা গজানোর অপেক্ষায়।</p>

<p>ছবি-সূত্রঃ <a href="https://www.reddit.com/r/painting/comments/1mp4mry/would_you_call_this_a_peaceful_scene_or_a/" rel="nofollow">r/painting</a></p>
]]></content:encoded>
      <guid>https://infosec.press/lokmanus/bikeler-rnge-haaraano-dingulo</guid>
      <pubDate>Wed, 13 Aug 2025 17:24:51 +0000</pubDate>
    </item>
  </channel>
</rss>